পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানজনক পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তাড়াহুড়ো করে নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, কূটনৈতিক আলোচনা এবং সম্মানজনক আমন্ত্রণের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হতে পারে।
ভারতীয় গণমাধ্যমে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেটিকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা খুবই কম।
তিনি জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হলে আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা জরুরি।
২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কে শীতলতা তৈরি হয়। পরে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্পর্ক উন্নয়নের আলোচনা শুরু হলেও ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।
হুমায়ুন কবির বলেন, ভারতের বর্তমান নেতৃত্বকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিষয়টি সঠিকভাবে অনুধাবন করতে হবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ে সমাধান চাওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া বা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া দুই দেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক দেশের স্বার্থ বিবেচনায় এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রিয়াদ সফরের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের কাজ চলছে।
মন্তব্যসমূহ