ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

শেয়ারবাজারে গভীর সংকট, ২২ হাউসের লেনদেন স্থগিত

শেয়ারবাজারে গভীর সংকট, ২২ হাউসের লেনদেন স্থগিত
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

অনিয়ম, দুর্নীতি ও তদারকির ঘাটতিতে দেশের পুঁজিবাজারে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। সমন্বিত গ্রাহক হিসাব বা সিসিএ এবং প্রকৃত সম্পদে ঘাটতিসহ নানা অনিয়মের কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ২২টি ট্রেকহোল্ডার কোম্পানির লেনদেন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে এসব ব্রোকারেজ হাউসের হাজারো বিনিয়োগকারী তাদের অর্থ ও শেয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউসের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের জমা রাখা অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ, বাংকো সিকিউরিটিজ, তামহা সিকিউরিটিজ ও মশিউর সিকিউরিটিজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের ঘাটতি শনাক্ত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৬০৭ কোটি টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

এর মধ্যে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজে ১২৬ কোটি, বাংকো সিকিউরিটিজে ১২৮ কোটি, তামহা সিকিউরিটিজে ১৪০ কোটি এবং মশিউর সিকিউরিটিজে ১৬১ কোটি টাকার ঘাটতি শনাক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে এনআরবিসি সিকিউরিটিজেও ৫২ কোটি টাকার ঘাটতি পেয়েছে ডিএসই। তবে প্রতিষ্ঠানটির লেনদেন এখনো চালু রয়েছে।

এদিকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আরও কয়েকটি সিকিউরিটিজ হাউসের লেনদেন স্থগিত রয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েকটির প্রকৃত মালিকানা নিয়েও জটিলতা রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএসই।

ডিএসইর কর্মকর্তারা বলছেন, বছরের পর বছর সমন্বিত গ্রাহক হিসাব থেকে বিনিয়োগকারীদের জমা করা অর্থ আইনবহির্ভূতভাবে ব্যবহারের অভিযোগে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধ রয়েছে, আবার কয়েকটির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করছে।

বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন জানিয়েছে, যেসব ব্রোকারেজ হাউস থেকে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ও শেয়ার আত্মসাৎ হয়েছে, সেগুলোর পাওনা বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল থেকে পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রি করে অর্থ উদ্ধারের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিশন।

তবে বছরের পর বছর ধরে অর্থ আটকে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। মশিউর সিকিউরিটিজের এক বিনিয়োগকারী জানান, নিজের বেতনের অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছিলেন। ২০২৪ সালে জানতে পারেন, তার ব্রোকারেজ হাউস বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দিতে পারছে না। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে যোগাযোগ করেও এখনো অর্থ ফেরত পাননি তিনি।

অন্যদিকে মশিউর সিকিউরিটিজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের জন্য তাদের বিভিন্ন সম্পদ বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব সম্পদ বিক্রি করে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কার্যক্রমে এমন অনিয়ম চলতে থাকায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্টক এক্সচেঞ্জের নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের মতে, প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে ফরেনসিক অডিট করা প্রয়োজন। পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে, তাদের সম্পদ জব্দ বা বিক্রি করে দ্রুত বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করা উচিত।

এদিকে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ও শেয়ার আত্মসাতের ঘটনায় কঠোর অবস্থানে যাওয়ার কথা জানিয়েছে বিএসইসি। বিশেষ অডিটর প্যানেল গঠন করে আগাম ঘোষণা ছাড়াই ব্রোকারেজ হাউস পরিদর্শনের জন্য স্টক এক্সচেঞ্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেলে কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করার পাশাপাশি প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিলেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে গত কয়েক বছরে যেসব বিনিয়োগকারীর অর্থ ও শেয়ার তছরুপ হয়েছে, সেগুলো বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল থেকে দ্রুত পরিশোধের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অর্থ ফেরত দিলেই হবে না, অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

ট্যাগ : পুঁজিবাজার শেয়ারবাজার ডিএসই

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


শেয়ারবাজারে গভীর সংকট, ২২ হাউসের লেনদেন স্থগিত

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

অনিয়ম, দুর্নীতি ও তদারকির ঘাটতিতে দেশের পুঁজিবাজারে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। সমন্বিত গ্রাহক হিসাব বা সিসিএ এবং প্রকৃত সম্পদে ঘাটতিসহ নানা অনিয়মের কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ২২টি ট্রেকহোল্ডার কোম্পানির লেনদেন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে এসব ব্রোকারেজ হাউসের হাজারো বিনিয়োগকারী তাদের অর্থ ও শেয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউসের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের জমা রাখা অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ, বাংকো সিকিউরিটিজ, তামহা সিকিউরিটিজ ও মশিউর সিকিউরিটিজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের ঘাটতি শনাক্ত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৬০৭ কোটি টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

এর মধ্যে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজে ১২৬ কোটি, বাংকো সিকিউরিটিজে ১২৮ কোটি, তামহা সিকিউরিটিজে ১৪০ কোটি এবং মশিউর সিকিউরিটিজে ১৬১ কোটি টাকার ঘাটতি শনাক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে এনআরবিসি সিকিউরিটিজেও ৫২ কোটি টাকার ঘাটতি পেয়েছে ডিএসই। তবে প্রতিষ্ঠানটির লেনদেন এখনো চালু রয়েছে।

এদিকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আরও কয়েকটি সিকিউরিটিজ হাউসের লেনদেন স্থগিত রয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েকটির প্রকৃত মালিকানা নিয়েও জটিলতা রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএসই।

ডিএসইর কর্মকর্তারা বলছেন, বছরের পর বছর সমন্বিত গ্রাহক হিসাব থেকে বিনিয়োগকারীদের জমা করা অর্থ আইনবহির্ভূতভাবে ব্যবহারের অভিযোগে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধ রয়েছে, আবার কয়েকটির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করছে।

বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন জানিয়েছে, যেসব ব্রোকারেজ হাউস থেকে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ও শেয়ার আত্মসাৎ হয়েছে, সেগুলোর পাওনা বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল থেকে পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রি করে অর্থ উদ্ধারের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিশন।

তবে বছরের পর বছর ধরে অর্থ আটকে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। মশিউর সিকিউরিটিজের এক বিনিয়োগকারী জানান, নিজের বেতনের অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছিলেন। ২০২৪ সালে জানতে পারেন, তার ব্রোকারেজ হাউস বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দিতে পারছে না। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে যোগাযোগ করেও এখনো অর্থ ফেরত পাননি তিনি।

অন্যদিকে মশিউর সিকিউরিটিজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের জন্য তাদের বিভিন্ন সম্পদ বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব সম্পদ বিক্রি করে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কার্যক্রমে এমন অনিয়ম চলতে থাকায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্টক এক্সচেঞ্জের নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের মতে, প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে ফরেনসিক অডিট করা প্রয়োজন। পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে, তাদের সম্পদ জব্দ বা বিক্রি করে দ্রুত বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করা উচিত।

এদিকে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ও শেয়ার আত্মসাতের ঘটনায় কঠোর অবস্থানে যাওয়ার কথা জানিয়েছে বিএসইসি। বিশেষ অডিটর প্যানেল গঠন করে আগাম ঘোষণা ছাড়াই ব্রোকারেজ হাউস পরিদর্শনের জন্য স্টক এক্সচেঞ্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেলে কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করার পাশাপাশি প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিলেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে গত কয়েক বছরে যেসব বিনিয়োগকারীর অর্থ ও শেয়ার তছরুপ হয়েছে, সেগুলো বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল থেকে দ্রুত পরিশোধের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অর্থ ফেরত দিলেই হবে না, অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ