ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর ঘোষণা ট্রাম্পের

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর ঘোষণা ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে দক্ষিণ কোরিয়া যোগ না দেওয়ায় দেশটির সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর’ ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে নিজের ‘খুব ভালো সম্পর্কের’ কথাও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৬ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এসব ব্যয়ের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্র বহন করে। একই সঙ্গে তার দাবি, এই মহড়াগুলো উত্তর কোরিয়ার প্রতি ‘অনুপযুক্ত ও বৈরী’ বার্তা পাঠায়।

তবে দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত যৌথ সামরিক মহড়া নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে।

ট্রাম্প জানান, সম্প্রতি তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টায় যোগ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। তবে সিউল এতে রাজি হয়নি। যদিও ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন, ইরান ইস্যু এবং যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়া সোমবার শুরু হওয়ার কথা ছিল। এটি বাতিল করার মতো সময় না থাকলেও ভবিষ্যতে মহড়ার পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। ১১ দিনব্যাপী এবারের মহড়ায় প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। ২০১৯ সালে কিমের সঙ্গে তোলা একটি পুরোনো ছবি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ছবিতে তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্ট না হলেও তারা ‘দারুণ বন্ধু’।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর সিদ্ধান্তের পেছনে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক উন্নয়নের আগ্রহ থাকতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মহড়া কমিয়ে দিলে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সমন্বয় দুর্বল হতে পারে এবং সম্ভাব্য সংঘাত প্রতিরোধের সক্ষমতাও কমে যেতে পারে।

এর আগে ২০১৮ সালে কিম জং উনের সঙ্গে আলোচনার সময়ও যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া স্থগিত করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি তখন এসব মহড়াকে ‘উসকানিমূলক’ ও ব্যয়বহুল হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটন-সিউল সামরিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এদিকে যৌথ মহড়ার আগে উত্তর কোরিয়া একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। পিয়ংইয়ং বরাবরই যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে আগ্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে।

সূত্র: বিবিসি

ট্যাগ : ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়া কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়া

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর ঘোষণা ট্রাম্পের

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে দক্ষিণ কোরিয়া যোগ না দেওয়ায় দেশটির সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর’ ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে নিজের ‘খুব ভালো সম্পর্কের’ কথাও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৬ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এসব ব্যয়ের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্র বহন করে। একই সঙ্গে তার দাবি, এই মহড়াগুলো উত্তর কোরিয়ার প্রতি ‘অনুপযুক্ত ও বৈরী’ বার্তা পাঠায়।

তবে দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত যৌথ সামরিক মহড়া নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে।

ট্রাম্প জানান, সম্প্রতি তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টায় যোগ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। তবে সিউল এতে রাজি হয়নি। যদিও ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন, ইরান ইস্যু এবং যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়া সোমবার শুরু হওয়ার কথা ছিল। এটি বাতিল করার মতো সময় না থাকলেও ভবিষ্যতে মহড়ার পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। ১১ দিনব্যাপী এবারের মহড়ায় প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। ২০১৯ সালে কিমের সঙ্গে তোলা একটি পুরোনো ছবি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ছবিতে তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্ট না হলেও তারা ‘দারুণ বন্ধু’।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর সিদ্ধান্তের পেছনে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক উন্নয়নের আগ্রহ থাকতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মহড়া কমিয়ে দিলে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সমন্বয় দুর্বল হতে পারে এবং সম্ভাব্য সংঘাত প্রতিরোধের সক্ষমতাও কমে যেতে পারে।

এর আগে ২০১৮ সালে কিম জং উনের সঙ্গে আলোচনার সময়ও যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া স্থগিত করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি তখন এসব মহড়াকে ‘উসকানিমূলক’ ও ব্যয়বহুল হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটন-সিউল সামরিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এদিকে যৌথ মহড়ার আগে উত্তর কোরিয়া একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। পিয়ংইয়ং বরাবরই যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে আগ্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে।

সূত্র: বিবিসি


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ