ঢাকা    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৮

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৮
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে শক্তিশালী ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮ জনে পৌঁছেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে দেশটির দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা (বিএনপিবি)।

স্থানীয় সময় ভোর ৫টার কিছু আগে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয় ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৫ কিলোমিটার গভীরে। মূল কম্পনের পর ৬.১ মাত্রার একটি আফটারশকসহ আরও কয়েকটি শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়।

ভূমিকম্পের পরপরই সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তবে প্রায় তিন ঘণ্টা পর সমুদ্রপৃষ্ঠে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশঙ্কা না থাকায় সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়। আতঙ্কিত হয়ে প্রায় দুই হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উঁচু এলাকায় চলে যান।

ইস্ট নুসা টেঙ্গারা প্রদেশের গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াডেস লাকা লেনা জানিয়েছেন, অনেক মানুষ ঘুমন্ত অবস্থায় ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মারা গেছেন।

সিক্কা অঞ্চলের বাসিন্দা আর্নল্ড ওয়েলিয়ান্তো জানান, তীব্র কম্পনে তার ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় সমুদ্রের পানি সরে যেতে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে অনেকে পাহাড় ও উঁচু সড়কের দিকে চলে যান।

রুটেং শহরের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ইউলিয়ান জুইতা একালিয়া বলেন, জীবনে এত শক্তিশালী ভূমিকম্প তিনি আগে অনুভব করেননি। তার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, কম্পনের সময় মনে হচ্ছিল তারা যেন ট্রামপোলিনের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন।

ভূমিকম্পে মৌমেরে বন্দরের মূল টার্মিনাল ভবনের কংক্রিটের একটি অংশ ভেঙে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের ওপর পড়ে। এ সময় জাহাজে ওঠানামার সিঁড়ি ভেঙে কয়েকজন সমুদ্রে পড়ে যান।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভূমিকম্পে ৫৪টি বাড়ি, পাঁচটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, তিনটি উপাসনালয়, ছয়টি সরকারি ভবন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং একটি গুদামঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে মঙ্গরাই প্রদেশকে অন্যতম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

উদ্ধারকারী দলগুলো বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান করছে। আহতদের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকির দিক থেকে ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে দেশটির অবস্থান হওয়ায় সেখানে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।

উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র : বিবিসি

ট্যাগ : ভূমিকম্প ইন্দোনেশিয়া সুনামি

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৮

প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে শক্তিশালী ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮ জনে পৌঁছেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে দেশটির দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা (বিএনপিবি)।

স্থানীয় সময় ভোর ৫টার কিছু আগে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয় ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৫ কিলোমিটার গভীরে। মূল কম্পনের পর ৬.১ মাত্রার একটি আফটারশকসহ আরও কয়েকটি শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়।

ভূমিকম্পের পরপরই সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তবে প্রায় তিন ঘণ্টা পর সমুদ্রপৃষ্ঠে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশঙ্কা না থাকায় সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়। আতঙ্কিত হয়ে প্রায় দুই হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উঁচু এলাকায় চলে যান।

ইস্ট নুসা টেঙ্গারা প্রদেশের গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াডেস লাকা লেনা জানিয়েছেন, অনেক মানুষ ঘুমন্ত অবস্থায় ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মারা গেছেন।

সিক্কা অঞ্চলের বাসিন্দা আর্নল্ড ওয়েলিয়ান্তো জানান, তীব্র কম্পনে তার ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় সমুদ্রের পানি সরে যেতে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে অনেকে পাহাড় ও উঁচু সড়কের দিকে চলে যান।

রুটেং শহরের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ইউলিয়ান জুইতা একালিয়া বলেন, জীবনে এত শক্তিশালী ভূমিকম্প তিনি আগে অনুভব করেননি। তার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, কম্পনের সময় মনে হচ্ছিল তারা যেন ট্রামপোলিনের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন।

ভূমিকম্পে মৌমেরে বন্দরের মূল টার্মিনাল ভবনের কংক্রিটের একটি অংশ ভেঙে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের ওপর পড়ে। এ সময় জাহাজে ওঠানামার সিঁড়ি ভেঙে কয়েকজন সমুদ্রে পড়ে যান।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভূমিকম্পে ৫৪টি বাড়ি, পাঁচটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, তিনটি উপাসনালয়, ছয়টি সরকারি ভবন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং একটি গুদামঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে মঙ্গরাই প্রদেশকে অন্যতম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

উদ্ধারকারী দলগুলো বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান করছে। আহতদের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকির দিক থেকে ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে দেশটির অবস্থান হওয়ায় সেখানে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।

উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র : বিবিসি


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ