যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ যোগাযোগ ও বার্তা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে পাকিস্তানই প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে বলে জানিয়েছে ইরান। চীন চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করলেও পাকিস্তানের পরিবর্তে নতুন মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব নেয়নি বলে স্পষ্ট করেছে তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। তার এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে উত্তেজনা কমাতে নতুন করে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে।
চীন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বাঘাই বলেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-সংক্রান্ত আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হলো পাকিস্তান। প্রয়োজন হলে কাতারও সহায়তা করে।’
তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে ইরানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত আছে। আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে ইরানের উদ্বেগের সঙ্গেও বেইজিং একমত।
বাঘাই আরও বলেন, ‘চীনও অন্য অনেক দেশের মতো সহযোগিতা করছে। তবে এটিকে নতুন কোনও মধ্যস্থতাকারী যুক্ত হওয়ার ঘটনা বলা ঠিক হবে না।’
গত কয়েক মাস ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। পাকিস্তানও সংলাপ ও কূটনীতিকে সংকট সমাধানের একমাত্র কার্যকর পথ হিসেবে তুলে ধরেছে।
সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। আলোচনায় আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টা গুরুত্ব পায়।
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও আরাগচির সঙ্গে একাধিক দফা যোগাযোগ করেছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগের বিবৃতিগুলোতে বলা হয়েছে, দুই পক্ষ আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছে এবং ইরান পাকিস্তানের মধ্যস্থতামূলক ভূমিকার প্রশংসা করেছে।
পাকিস্তান ছাড়াও কাতার ও ওমান হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর আলোচনায় যুক্ত রয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় প্রণালিটির পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তবে ইসমাইল বাঘাই দাবি করেছেন, এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সরাসরি কোনো আলোচনা চলছে না। তার ভাষায়, তেহরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে অস্থায়ী নিরাপদ নৌপথ তৈরির বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছে।
যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার দাবি করলেও ইরান তা অস্বীকার করেছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রকৃতি ও অগ্রগতি নিয়ে এখনো পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে।
সূত্র: আরব নিউজ