প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, ফল প্রকাশে অনিয়ম এবং চাকরির সংকটে ক্ষুব্ধ ভারতের লাখো তরুণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ এখন দেশটির বড় যুব আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বছরের পর বছর পড়াশোনা ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েও অনেক ভারতীয় তরুণ কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা চাকরিতে প্রবেশ করতে পারছেন না। পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও প্রশাসনিক অনিয়ম তাদের হতাশা আরও বাড়িয়েছে।
আন্দোলনের তাৎক্ষণিক কারণ ছিল মেডিকেলে ভর্তির জাতীয় পরীক্ষা এনইইটি-ইউজির প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিল। এ ঘটনায় অসংখ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের দাবি, পরীক্ষাসংক্রান্ত অনিয়মে এক কোটির বেশি শিক্ষার্থী কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্যোগটি শুরু করেছিলেন। ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে ‘তেলাপোকা’ শব্দটি নিজেদের পরিচয় হিসেবে গ্রহণ করেন আন্দোলনকারীরা। পরে আন্দোলনটি অনলাইন থেকে নয়াদিল্লির রাজপথে ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভকারীরা তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, প্রশ্নফাঁসের নিরপেক্ষ তদন্ত, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। কয়েক সপ্তাহের আন্দোলনের পর ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলে বিক্ষোভকারীরা একে নিজেদের বিজয় হিসেবে ঘোষণা করেন।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের মধ্যেই ভারতের তরুণদের অসন্তোষ শেষ হচ্ছে না। বেকারত্ব, মানসম্মত চাকরির অভাব, ব্যয়বহুল শিক্ষা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থার সংকট তাদের ক্ষোভের গভীরে রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ভারতের শহুরে মধ্যবিত্ত ও তরুণ ভোটারদের বড় একটি অংশ মোদির রাজনৈতিক শক্তির ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ফলে দলীয় পরিচয়ের বাইরে গড়ে ওঠা এ যুব আন্দোলন মোদির তৃতীয় মেয়াদের সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: রয়টা