বলিউডে সফল অভিষেকের পরও দীর্ঘদিন প্রত্যাশিত চরিত্র না পাওয়ায় অভিনয়জীবন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ইয়ামি গৌতম। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ারের সেই কঠিন সময় এবং বলিউডে বহিরাগত হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন তিনি।
২০১২ সালে আয়ুষ্মান খুরানার বিপরীতে ‘ভিকি ডোনর’ সিনেমার মাধ্যমে হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ইয়ামির। সিনেমাটি ব্যবসায়িকভাবে সফল হলেও পরবর্তী সময়ে তার কাছে বৈচিত্র্যময় ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের প্রস্তাব খুব বেশি আসেনি।
ইয়ামি জানান, ২০১৮-১৯ সালের দিকে তিনি মানসিকভাবে বলিউড ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিলেন। হিমাচল প্রদেশে পরিবারের কৃষিজমিতে ফিরে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন জীবন শুরু করার কথাও ভেবেছিলেন তিনি। সেই সিদ্ধান্তে তার বাবা-মাও সমর্থন দিয়েছিলেন।
তবে ঠিক সেই সময়েই ‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ এবং ‘বালা’ সিনেমায় কাজের সুযোগ পান ইয়ামি। দুটি ছবির সাফল্য তার ক্যারিয়ারের গতিপথ বদলে দেয় এবং নতুন ধরনের চরিত্রের দরজা খুলে দেয়।
বলিউডে কোনো প্রতিষ্ঠিত পারিবারিক পরিচয় ছাড়া কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। তার মতে, বহিরাগত শিল্পীদের প্রতিটি সুযোগের জন্য বারবার নিজেকে প্রমাণ করতে হয়। অন্যদিকে ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে আগে থেকেই সম্পর্ক থাকা ব্যক্তিরা ব্যর্থতার পরও তুলনামূলকভাবে বেশি সুযোগ পান।
ইয়ামি বলেন, বারবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে তার মনে হতো, সমানসংখ্যক সুযোগ পেলে তিনিও আরও ভালো অভিনেত্রী হয়ে উঠতে পারতেন। সুযোগের এই বৈষম্যই একসময় তাকে গভীর হতাশায় ফেলেছিল।
তবে বর্তমানে দর্শকদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করেন ইয়ামি। তার মতে, এখন দর্শক কোনো শিল্পী কোথা থেকে এসেছেন, তার চেয়ে অভিনয় ও কাজের মানকে বেশি গুরুত্ব দেন। এই পরিবর্তন নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করেন তিনি।
ক্যারিয়ারের নানা ওঠানামা পেরিয়ে বলিউডে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন ইয়ামি গৌতম। সামনে তাকে পরিচালক বালাজি মোহনের ‘নয়ী নভেলী’ সিনেমায় দেখা যাওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র : এনডিটিভি