ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক অভিযান চালালে কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান। শনিবার পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক টেলিফোন আলাপে এই অবস্থান জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন আরাঘচি।
আলোচনায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের নতুন কোনো হামলার বিরুদ্ধে ইরান নিজের প্রতিরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে। এমন অভিযানে কোনো আঞ্চলিক দেশ সহযোগিতা করলে তার বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
ইরানের এই সতর্কবার্তা এমন সময় এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে হতাশা প্রকাশের পাশাপাশি প্রয়োজনে আবার সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছিলেন। পরে অবশ্য দ্রুত সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় পরিকল্পিত হামলা আপাতত স্থগিতের ঘোষণা দেন তিনি।
এদিকে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির উত্তরাঞ্চল ও বুবিয়ান দ্বীপের দিকে যাওয়া কয়েকটি ইরানি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে একটি সরকারি স্থাপনা ও কয়েকটি বেসামরিক যানবাহনের ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ইরানের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের ঘনিষ্ঠ নূর নিউজ জানিয়েছে, দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা হলে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের তেল-গ্যাস স্থাপনা পাল্টা আঘাতের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবে এটি ইরান সরকারের আনুষ্ঠানিক সামরিক ঘোষণা নয়, বরং সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত সতর্কবার্তা।
চলমান উত্তেজনার প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও নৌপরিবহনেও পড়েছে। রয়টার্সের হিসাবে, জুলাই মাসে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।
শনিবার ওমান উপকূলের কাছে দুটি সামুদ্রিক ঘটনার খবরও জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস। একটি ট্যাংকার অজ্ঞাত প্রক্ষেপণের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অন্য ঘটনায় একটি জাহাজের কাছাকাছি বিস্ফোরণ ঘটে।
সূত্র: রয়টার্স