ঢাকা    শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনার শীর্ষে মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনার শীর্ষে মির্জা ফখরুল
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম শোনা গেলেও আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উঠে আসছে দলটির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম।

দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং দল ও দলের বাইরে গ্রহণযোগ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন মির্জা ফখরুল।

তবে এ বিষয়ে এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন, নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে। নিজের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি পদে এমন একজন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া প্রয়োজন, যিনি সংকটের সময় বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবেন। তাদের মতে, মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও ভারসাম্যপূর্ণ রাজনৈতিক আচরণ তাকে এ আলোচনায় এগিয়ে রেখেছে।

এক দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল। দলের কঠিন সময়ে আন্দোলন পরিচালনা, সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখা এবং দেশি-বিদেশি মহলে দলের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।

১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল কর্মজীবনের শুরুতে শিক্ষকতা করেন। পরে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

রাষ্ট্রপতি পদে তার নাম আলোচনায় আসার পেছনে রাজনৈতিক ত্যাগ, দলের প্রতি আনুগত্য এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা সহায়ক হতে পারে বলেও মত দিয়েছেন কয়েকজন বিশ্লেষক।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুল আলম সেলিম বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন একজনকে বেছে নেওয়া উচিত, যিনি সৎ, দক্ষ, সাহসী এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য। দল ও নেতৃত্বের প্রতি তার বিশ্বস্ততাও গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. স ম আলী রেজার মতে, বিএনপিতে রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্য একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা রয়েছেন। তবে শারীরিকভাবে সক্ষম এবং সংকটের সময় প্রাজ্ঞ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন—এমন কাউকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত। এ বিবেচনায় মির্জা ফখরুল যোগ্য প্রার্থী বলে মনে করেন তিনি।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে অভিজ্ঞ, সৎ ও গ্রহণযোগ্য একজন রাজনীতিক প্রয়োজন, যার সংবিধান, আইন ও প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রয়েছে।

এদিকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল ঘোষণার আগে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশনের।

আইন অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংসদ সচিবালয় থেকে সংসদ সদস্যদের তালিকা পাওয়ার পর ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত এবং দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পরই বিষয়টি নিশ্চিত হবে।

ট্যাগ : বিএনপি মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনার শীর্ষে মির্জা ফখরুল

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম শোনা গেলেও আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উঠে আসছে দলটির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম।

দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং দল ও দলের বাইরে গ্রহণযোগ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন মির্জা ফখরুল।

তবে এ বিষয়ে এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন, নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে। নিজের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি পদে এমন একজন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া প্রয়োজন, যিনি সংকটের সময় বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবেন। তাদের মতে, মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও ভারসাম্যপূর্ণ রাজনৈতিক আচরণ তাকে এ আলোচনায় এগিয়ে রেখেছে।

এক দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল। দলের কঠিন সময়ে আন্দোলন পরিচালনা, সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখা এবং দেশি-বিদেশি মহলে দলের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।

১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল কর্মজীবনের শুরুতে শিক্ষকতা করেন। পরে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

রাষ্ট্রপতি পদে তার নাম আলোচনায় আসার পেছনে রাজনৈতিক ত্যাগ, দলের প্রতি আনুগত্য এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা সহায়ক হতে পারে বলেও মত দিয়েছেন কয়েকজন বিশ্লেষক।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুল আলম সেলিম বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন একজনকে বেছে নেওয়া উচিত, যিনি সৎ, দক্ষ, সাহসী এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য। দল ও নেতৃত্বের প্রতি তার বিশ্বস্ততাও গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. স ম আলী রেজার মতে, বিএনপিতে রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্য একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা রয়েছেন। তবে শারীরিকভাবে সক্ষম এবং সংকটের সময় প্রাজ্ঞ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন—এমন কাউকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত। এ বিবেচনায় মির্জা ফখরুল যোগ্য প্রার্থী বলে মনে করেন তিনি।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে অভিজ্ঞ, সৎ ও গ্রহণযোগ্য একজন রাজনীতিক প্রয়োজন, যার সংবিধান, আইন ও প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রয়েছে।

এদিকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল ঘোষণার আগে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশনের।

আইন অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংসদ সচিবালয় থেকে সংসদ সদস্যদের তালিকা পাওয়ার পর ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত এবং দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পরই বিষয়টি নিশ্চিত হবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ