ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

স্বর্ণের মজুদ বাড়বে, প্রত্যাশা ৮৯ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

ডব্লিউজিসির জরিপ

স্বর্ণের মজুদ বাড়বে, প্রত্যাশা ৮৯ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বৈচিত্র্য আনতে স্বর্ণের মজুদ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (ডব্লিউজিসি) সর্বশেষ জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জরিপে অংশ নেওয়া ৮৯ শতাংশ রিজার্ভ ব্যবস্থাপক মনে করেন, আগামী ১২ মাসে বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণের মজুদ আরও বাড়বে। এতে কৌশলগত ও আপৎকালীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।

জরিপে অংশ নেওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ ব্যবস্থাপকদের রেকর্ড ৪৫ শতাংশ জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের স্বর্ণের মজুদ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিপরীতে মাত্র ১ শতাংশ মজুদ কমানোর কথা বলেছেন। অবশিষ্ট ৫৪ শতাংশ বর্তমান মজুদ অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে।

ডব্লিউজিসি ও ইউগভ চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯ মে পর্যন্ত জরিপটি পরিচালনা করে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রেকর্ড ৭৬টি উত্তর পাওয়া যায়।

দীর্ঘমেয়াদেও স্বর্ণের প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর আগ্রহ বাড়ছে। জরিপে ৮৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, আগামী পাঁচ বছরে বৈশ্বিক রিজার্ভে স্বর্ণের অংশ বৃদ্ধি পাবে। গত বছরের জরিপে এ হার ছিল ৭৬ শতাংশ।

অন্যদিকে মার্কিন ডলারের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে অপেক্ষাকৃত নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন রিজার্ভ ব্যবস্থাপকরা। প্রায় ৭৪ শতাংশ উত্তরদাতার ধারণা, পাঁচ বছরের মধ্যে বৈশ্বিক রিজার্ভে ডলারের অংশ কমবে। তবে এর অর্থ স্বর্ণ অল্প সময়ের মধ্যেই ডলারের স্থান পুরোপুরি দখল করবে—এমন নয়; বরং ব্যাংকগুলো ঝুঁকি কমাতে সম্পদে বৈচিত্র্য আনছে।

স্বর্ণ রাখার কারণ হিসেবে ৯০ শতাংশ উত্তরদাতা অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংকটের সময় এর কার্যকর ভূমিকার কথা বলেছেন। এ ছাড়া ৮৪ শতাংশ একে দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সংরক্ষণের মাধ্যম এবং ৮২ শতাংশ বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনার কার্যকর উপায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

স্বর্ণ সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। গত এক বছরে ৯ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজ দেশে স্বর্ণ রাখার পরিমাণ বাড়িয়েছে এবং ১০ শতাংশ বিদেশে সংরক্ষিত স্বর্ণের অবস্থান আরও বৈচিত্র্যময় করেছে। বিদেশে স্বর্ণ রাখার সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থান হিসেবে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডকে বেছে নিয়েছে ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা। নিজ দেশের ভল্টে অন্তত কিছু স্বর্ণ রাখে ৪৯ শতাংশ ব্যাংক।

ডব্লিউজিসির শাওকাই ফ্যান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এখন স্বর্ণকে শুধু ঐতিহ্যগত সম্পদ নয়, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা ও রিজার্ভে ভারসাম্য আনার একটি সক্রিয় কৌশলগত উপাদান হিসেবে বিবেচনা করছে।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগ : স্বর্ণের রিজার্ভ কেন্দ্রীয় ব্যাংক মার্কিন ডলার

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


স্বর্ণের মজুদ বাড়বে, প্রত্যাশা ৮৯ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বৈচিত্র্য আনতে স্বর্ণের মজুদ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (ডব্লিউজিসি) সর্বশেষ জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জরিপে অংশ নেওয়া ৮৯ শতাংশ রিজার্ভ ব্যবস্থাপক মনে করেন, আগামী ১২ মাসে বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণের মজুদ আরও বাড়বে। এতে কৌশলগত ও আপৎকালীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।

জরিপে অংশ নেওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ ব্যবস্থাপকদের রেকর্ড ৪৫ শতাংশ জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের স্বর্ণের মজুদ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিপরীতে মাত্র ১ শতাংশ মজুদ কমানোর কথা বলেছেন। অবশিষ্ট ৫৪ শতাংশ বর্তমান মজুদ অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে।

ডব্লিউজিসি ও ইউগভ চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯ মে পর্যন্ত জরিপটি পরিচালনা করে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রেকর্ড ৭৬টি উত্তর পাওয়া যায়।

দীর্ঘমেয়াদেও স্বর্ণের প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর আগ্রহ বাড়ছে। জরিপে ৮৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, আগামী পাঁচ বছরে বৈশ্বিক রিজার্ভে স্বর্ণের অংশ বৃদ্ধি পাবে। গত বছরের জরিপে এ হার ছিল ৭৬ শতাংশ।

অন্যদিকে মার্কিন ডলারের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে অপেক্ষাকৃত নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন রিজার্ভ ব্যবস্থাপকরা। প্রায় ৭৪ শতাংশ উত্তরদাতার ধারণা, পাঁচ বছরের মধ্যে বৈশ্বিক রিজার্ভে ডলারের অংশ কমবে। তবে এর অর্থ স্বর্ণ অল্প সময়ের মধ্যেই ডলারের স্থান পুরোপুরি দখল করবে—এমন নয়; বরং ব্যাংকগুলো ঝুঁকি কমাতে সম্পদে বৈচিত্র্য আনছে।

স্বর্ণ রাখার কারণ হিসেবে ৯০ শতাংশ উত্তরদাতা অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংকটের সময় এর কার্যকর ভূমিকার কথা বলেছেন। এ ছাড়া ৮৪ শতাংশ একে দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সংরক্ষণের মাধ্যম এবং ৮২ শতাংশ বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনার কার্যকর উপায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

স্বর্ণ সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। গত এক বছরে ৯ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজ দেশে স্বর্ণ রাখার পরিমাণ বাড়িয়েছে এবং ১০ শতাংশ বিদেশে সংরক্ষিত স্বর্ণের অবস্থান আরও বৈচিত্র্যময় করেছে। বিদেশে স্বর্ণ রাখার সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থান হিসেবে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডকে বেছে নিয়েছে ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা। নিজ দেশের ভল্টে অন্তত কিছু স্বর্ণ রাখে ৪৯ শতাংশ ব্যাংক।

ডব্লিউজিসির শাওকাই ফ্যান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এখন স্বর্ণকে শুধু ঐতিহ্যগত সম্পদ নয়, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা ও রিজার্ভে ভারসাম্য আনার একটি সক্রিয় কৌশলগত উপাদান হিসেবে বিবেচনা করছে।

সূত্র: রয়টার্স


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ