মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের দুই সপ্তাহে প্রায় ১০০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।
সোমবার পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানান, ৭ জুলাই থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা শুরুর পর থেকে প্রায় ১০০ সেনা বিভিন্ন মাত্রায় আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে দায়িত্বে ফিরেছেন বলেও জানান তিনি।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে বড় একটি অংশের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে আঘাত বা কনকশনের মতো সমস্যা দেখা গেছে। হতাহতের তথ্য গোপনের অভিযোগের পর এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হলো।
এর আগে জর্ডানের একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানি হামলায় নিহত দুই সেনার পরিচয় প্রকাশ করে পেন্টাগন। নিহতরা হলেন হাওয়াইয়ের ২৫ বছর বয়সী টাইলার জেমস ফিহান এবং টেক্সাসের ১৯ বছর বয়সী ইসাবেলা গঞ্জালেস। একই ঘটনায় আরেক সেনার মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। তেলের দাম বৃদ্ধি ও সামরিক হতাহতের ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন চাপের মুখে পড়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের প্রভাব কমানোর লক্ষ্যে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান সমর্থিত বাহিনীও পাল্টা হামলার দাবি করেছে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, এই অঞ্চলে ইরানের সামরিক তৎপরতা বন্ধ করাই অভিযানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দামও বেড়েছে। যুদ্ধের প্রভাব ও বাড়তে থাকা ব্যয়ের কারণে ট্রাম্প প্রশাসন অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স