যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান বর্তমানে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে’ লিপ্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে সংঘাতের যেকোনো পরিণতি মেনে নিতে দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২০ জুলাই) ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘বর্তমান বাস্তবতা হলো, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আজ একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে লিপ্ত। তাই আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে এবং এই প্রতিরোধের স্বাভাবিক পরিণতিগুলো মেনে নিতে হবে।’
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানা কয়েক দিন ধরে বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চলার মধ্যে তাঁর এই বক্তব্য এল। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সংঘাত আবারও তীব্র হয়েছে।
ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণকেন্দ্রে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে তেহরান। সাম্প্রতিক ইরানি হামলায় জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং একজন নিখোঁজ হয়েছেন। উত্তর ইরাকে ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ ধ্বংস করতে গিয়ে আরও এক মার্কিন সেনা নিহত হন।
ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মুখে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে তারা। দেশটির নেতারা বলছেন, সামরিক চাপের কাছে তেহরান নতি স্বীকার করবে না এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।
তবে দীর্ঘায়িত সংঘাতে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনেও চাপ বাড়ছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, পরিবহনব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হওয়ায় সেটি কার্যত ভেঙে পড়েছে। উভয় দেশই চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য পরস্পরকে দায়ী করছে।
পেজেশকিয়ানের সর্বশেষ বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, দ্রুত সংঘাত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা দেখছে না তেহরান। একই সঙ্গে যুদ্ধের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক মূল্য বহনের জন্য জনগণকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে চাইছে ইরানি নেতৃত্ব।
সূত্র: আল-জাজিরা
মন্তব্যসমূহ