ইউক্রেনের জনপ্রিয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে বরখাস্তের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর চাপ বাড়ছে। বিক্ষোভকারী, সেনাসদস্য ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ফেদোরভকে পুনর্বহাল এবং সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।
সরকার পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে ফেদোরভকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেন জেলেনস্কি। প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধকৌশল ও ড্রোন কর্মসূচির অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত ফেদোরভের অপসারণের প্রতিবাদে কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অনেকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওলেকসান্দর সিরস্কির পদত্যাগ দাবি করেছেন। কিয়েভের বিক্ষোভে তাঁরা ‘ফেদোরভকে ফিরিয়ে আনুন’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন এবং সিরস্কির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
ফেদোরভের সমর্থকদের আশঙ্কা, তাঁর অপসারণের ফলে ইউক্রেনের ড্রোন উৎপাদন, যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং সামরিক ক্রয়ব্যবস্থা আধুনিকায়নের কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সেনা ও স্বেচ্ছাসেবকদের একটি অংশ তাঁকে যুদ্ধকালীন সরকারের সবচেয়ে কার্যকর কর্মকর্তাদের একজন হিসেবে বিবেচনা করে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ফেদোরভ ড্রোন উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানো, রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং সম্মুখসারির ইউনিটগুলোর কাছে দ্রুত সরঞ্জাম পৌঁছানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। রুশ বাহিনীর স্টারলিংক ব্যবহারে বাধা দেওয়ার কার্যক্রমেও তাঁর ভূমিকা ছিল।
ফেদোরভ অভিযোগ করেছেন, সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব প্রয়োজনীয় সংস্কারে বাধা দিয়েছে। ড্রোন ও নতুন প্রযুক্তির কারণে যুদ্ধের ধরন পুরোপুরি বদলে গেলেও পুরোনো সামরিক ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট দ্রুততার সঙ্গে পরিবর্তিত হয়নি বলে তাঁর দাবি।
ফেদোরভের অপসারণের প্রতিবাদে ইউক্রেনের ড্রোন যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত একজন শীর্ষ কর্মকর্তাও পদত্যাগ করেছেন। এতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সামরিক বাহিনীর পুরোনো নেতৃত্বের মধ্যকার বিরোধ আরও প্রকাশ্যে এসেছে।
জেলেনস্কি স্বীকার করেছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যকার দ্বন্দ্ব ছিল পদ্ধতিগত। ফেদোরভ ও সেনাপ্রধান সিরস্কি একসঙ্গে কাজ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁকে একটি পক্ষ বেছে নিতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিক্ষোভের পর ফেদোরভ ও সিরস্কির সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করেছেন জেলেনস্কি। তবে ফেদোরভকে পুনর্বহাল কিংবা সেনাপ্রধানকে অপসারণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি তিনি।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে এই বিরোধ জেলেনস্কির রাজনৈতিক কর্তৃত্বের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ড্রোন ও প্রযুক্তিনির্ভর নতুন যুদ্ধকৌশল বনাম প্রচলিত সামরিক ব্যবস্থাপনা—ইউক্রেন কোন পথে এগোবে, তা নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
মন্তব্যসমূহ