দুবাইয়ে আটক বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে নীতিগতভাবে ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছে দুবাই পুলিশ। তবে তাঁকে কোন আইনি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হবে, সে বিষয়ে চারটি বিষয়ের ব্যাখ্যা চেয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুবাই পুলিশের পাঠানো চিঠি ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশে পৌঁছেছে। বর্তমানে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখার সহযোগিতায় এর জবাব প্রস্তুতের কাজ চলছে।
দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে চলমান মামলা, আদালতের আদেশ ও প্রত্যর্পণের প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে দুবাই কর্তৃপক্ষকে জবাব পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এর আগে বাংলাদেশ সরকার ইন্টারপোলের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরত আনার আবেদন করে। দুদকের তৈরি করা নথিপত্র আরবি ভাষায় অনুবাদ করে কূটনৈতিক চ্যানেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো হয়। এতে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং প্রত্যর্পণের প্রয়োজনীয় তথ্য সংযুক্ত করা হয়।
দুবাই কর্তৃপক্ষ মূলত জানতে চেয়েছে, কোন আইনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ তাঁকে ফেরত নিতে চাচ্ছে, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আন্তর্জাতিক বৈধতা কতটুকু, পরোয়ানার কার্যকারিতা এবং প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় কোন মন্ত্রণালয় দায়িত্ব পালন করছে।
কর্মকর্তাদের মতে, আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় এ ধরনের তথ্য চাওয়া স্বাভাবিক বিষয়। প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও কাগজপত্র দেওয়া হলে প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যেতে পারে।
বেনজীর আহমেদ এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালক এবং পরে বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করে।
পরবর্তীতে আদালতের আদেশে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের কিছু সম্পদ জব্দ করা হয় এবং একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ২০২৫ সালে ইন্টারপোল তাঁর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচারসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
মন্তব্যসমূহ