ঢাকা    মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বেনজীরের অবস্থান জানতে ইন্টারপোলে চিঠি, দেশে ফেরানো নিয়ে অনিশ্চয়তা

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বর্তমান অবস্থান জানতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) মাধ্যমে ই-মেইলে এ চিঠি পাঠানো হয়।পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় দেশটির পুলিশ। এরপর প্রায় চার মাস পেরিয়ে গেলেও তাকে বাংলাদেশে ফেরানো সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি তিনি দুবাই ছেড়েছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই তার অবস্থান নিশ্চিত হতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, বেনজীর আহমেদের অবস্থান জানতে এনসিবির মাধ্যমে বুধবার ইন্টারপোলে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠির উত্তর পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।এর আগে বেনজীরকে দেশে ফেরাতে কূটনৈতিক যোগাযোগের কথা জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন, কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগ করে দ্রুত সাবেক এই আইজিপিকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।[BANGVIEWS-POST:5079]বেনজীরকে গ্রেপ্তারের পর তার সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়ে দুবাই পুলিশের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে চিঠি দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নথি দুবাই কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে বেনজীরের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর প্রাথমিক নথি পর্যালোচনা করে দুবাই পুলিশ আরও কিছু আইনি ও কারিগরি তথ্য চায়। সেসব তথ্য-উপাত্তও বাংলাদেশ থেকে পাঠানো হয়।তবে এরই মধ্যে গত ২৭ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আদালত বেনজীর আহমেদের জামিন মঞ্জুর করেন। পরে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মুক্তির পর তিনি ক্যারিবীয় দেশ সেন্ট লুসিয়ায় চলে গেছেন। যদিও তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বন্দিবিনিময় চুক্তি রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের এ ধরনের প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। তবে অতীতে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসট্যান্স (এমএলএ) বা পারস্পরিক আইনি সহায়তার আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিভিন্ন মামলার আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার নজির রয়েছে।আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে অপরাধের যথাযথ তথ্য-প্রমাণ, দুই দেশের আইনি কাঠামোর সামঞ্জস্য, আদালতে প্রয়োজনীয় নথি উপস্থাপন এবং সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা।জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ছয়টি মামলা করেছে। পাশাপাশি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ও পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলায় তাকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।[BANGVIEWS-POST:5077]পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছরের ৭ মে ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই থেকে হত্যা মামলার আসামি আরিফ সরকারকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে একই মামলার আরেক আসামি মহসিন মিয়াকেও দেশে ফেরানো হয়েছিল।বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো আসামি রেড নোটিশের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হলেও তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সব সময় সহজ হয় না। বিশেষ করে অভিযুক্ত ব্যক্তি অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ, একাধিক দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশে সম্পদ ও বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত থাকলে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া আরও জটিল হতে পারে।সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বেনজীর আহমেদের একাধিক দেশের নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট রয়েছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে তার বিনিয়োগও রয়েছে। এসব বিষয় তার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিংবা বেনজীর আহমেদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বেনজীরের অবস্থান জানতে ইন্টারপোলে চিঠি, দেশে ফেরানো নিয়ে অনিশ্চয়তা