ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা নামতে আর বাকি মাত্র দুটি ম্যাচ। তার আগে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর এবার মর্যাদার লড়াইয়ে মাঠে নামছে দুই দল।
শনিবার (১৮ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। ইতোমধ্যে দুই দলই ফ্লোরিডায় পৌঁছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ ছন্দে থাকা ফ্রান্স সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে ফাইনালের টিকিট হাতছাড়া করে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে শিরোপার দৌড় থেকে ছিটকে যায়।
বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে অনেকেই তুলনামূলক কম গুরুত্বের হিসেবে দেখলেও দুই দলের জন্য এটি সম্মান রক্ষার সুযোগ। একই সঙ্গে টুর্নামেন্ট শেষ করার আগে ইতিবাচক ফল অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড।
ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ থমাস টুখেল বলেন, কোনো খেলোয়াড়ই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে চায় না, কারণ সবার লক্ষ্য থাকে ফাইনালে ওঠা এবং বিশ্বকাপ জেতা। তিনি আরও বলেন, ফ্রান্সের তুলনায় ইংল্যান্ড একদিন কম বিশ্রাম পেলেও দলটি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে ম্যাচটি খেলবে।
অন্যদিকে এই ম্যাচটি ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশঁমের দায়িত্বে শেষ ম্যাচ হতে যাচ্ছে। প্রায় ১৪ বছরের দায়িত্ব পালনকালে তিনি ফ্রান্সকে ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ শিরোপা জিতিয়েছেন, ২০২২ সালে ফাইনালে তুলেছেন এবং এবারও দলকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে গেছেন।
সেমিফাইনালে বিদায়ের পর দেশঁম বলেন, শিরোপা জয়ের লক্ষ্য পূরণ না হলেও তৃতীয় স্থান অর্জনের সুযোগ এখনো রয়েছে। তাই সেই লক্ষ্য নিয়েই দল মাঠে নামবে। তিনি স্বীকার করেন, দলের হতাশা তাদের বড় প্রত্যাশারই প্রতিফলন।
এই ম্যাচটি ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি সমান আটটি করে গোল নিয়ে এগিয়ে আছেন। ফলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করে শীর্ষস্থান এককভাবে দখলের সুযোগ থাকবে এমবাপ্পের সামনে।
ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন ও জুড বেলিংহাম টুর্নামেন্টে ছয়টি করে গোল করেছেন। এই ম্যাচে একাধিক গোল করতে পারলে তারাও গোল্ডেন বুটের প্রতিযোগিতায় নতুন করে আলোচনায় আসতে পারেন।
এছাড়া ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হ্যারি কেনের জন্য এটি বিশ্বকাপে শেষ ম্যাচ হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। বয়স বিবেচনায় ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে তার অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হওয়ায় এই ম্যাচটি তার জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ না হলেও বিশ্বকাপের শেষ প্রান্তে এসে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের এই লড়াই মর্যাদা, আত্মসম্মান এবং ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আকর্ষণীয় এক ম্যাচ হয়ে উঠতে পারে।
মন্তব্যসমূহ