ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলতে জ্বালানি পথ বন্ধের হুঁশিয়ারি আইআরজিসির

যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলতে জ্বালানি পথ বন্ধের হুঁশিয়ারি আইআরজিসির
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথগুলো বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

বুধবার (১৫ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এর আগে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

আইআরএনএ প্রকাশিত বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, আঞ্চলিক জ্বালানি রপ্তানির সুবিধা যদি সবাই না পায়, তাহলে কেউই তা পাবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হুমকির মাধ্যমে ইরান ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর সহায়তায় লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব-এল-মান্দেব প্রণালিও অচল করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমনটি হলে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দুটি জ্বালানি পরিবহন রুট বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে।

বাব-এল-মান্দেব প্রণালি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করেছে। সৌদি আরবের তেল রপ্তানিসহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বড় অংশ এই সমুদ্রপথ ব্যবহার করে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, হুতিদের এক শীর্ষ নেতা সতর্ক করেছেন, ইয়েমেনে সৌদি হামলা অব্যাহত থাকলে বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে হুতিদের দাবি, সৌদি আরব তাদের নিয়ন্ত্রিত একটি বিমানবন্দরে হামলা চালানোর পর তারা পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।

২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা চালিয়ে বৈশ্বিক নৌ বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল হুতিরা।

এর আগে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের হামলায় কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশ ও ইরানের উপকূলীয় এলাকায় একাধিক সামরিক স্থাপনায় অভিযান চালানো হয়েছে।

আইআরজিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।

ইরান দাবি করেছে, হরমুজে মার্কিন হামলার জবাবে বাহরাইনে থাকা মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের কয়েকটি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।

সূত্র: ফ্রান্স ২৪

ট্যাগ : মধ্যপ্রাচ্য হরমুজ প্রণালি আইআরজিসি

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলতে জ্বালানি পথ বন্ধের হুঁশিয়ারি আইআরজিসির

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথগুলো বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

বুধবার (১৫ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এর আগে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

আইআরএনএ প্রকাশিত বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, আঞ্চলিক জ্বালানি রপ্তানির সুবিধা যদি সবাই না পায়, তাহলে কেউই তা পাবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হুমকির মাধ্যমে ইরান ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর সহায়তায় লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব-এল-মান্দেব প্রণালিও অচল করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমনটি হলে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দুটি জ্বালানি পরিবহন রুট বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে।

বাব-এল-মান্দেব প্রণালি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করেছে। সৌদি আরবের তেল রপ্তানিসহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বড় অংশ এই সমুদ্রপথ ব্যবহার করে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, হুতিদের এক শীর্ষ নেতা সতর্ক করেছেন, ইয়েমেনে সৌদি হামলা অব্যাহত থাকলে বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে হুতিদের দাবি, সৌদি আরব তাদের নিয়ন্ত্রিত একটি বিমানবন্দরে হামলা চালানোর পর তারা পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।

২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা চালিয়ে বৈশ্বিক নৌ বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল হুতিরা।

এর আগে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের হামলায় কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশ ও ইরানের উপকূলীয় এলাকায় একাধিক সামরিক স্থাপনায় অভিযান চালানো হয়েছে।

আইআরজিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।

ইরান দাবি করেছে, হরমুজে মার্কিন হামলার জবাবে বাহরাইনে থাকা মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের কয়েকটি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।

সূত্র: ফ্রান্স ২৪


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ