ফার্মের বা ব্রয়লার মুরগি নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা সংশয় থাকলেও খাদ্য ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপদভাবে উৎপাদিত এবং ভালোভাবে রান্না করা ব্রয়লার মুরগি নিজে ক্ষতিকর নয়। বরং এটি উচ্চমানের প্রোটিন, বি-ভিটামিন, ফসফরাস ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির সহজলভ্য উৎস।
বাংলাদেশে তুলনামূলক কম দামে প্রাণিজ প্রোটিন পাওয়ার অন্যতম প্রধান উৎস ব্রয়লার মুরগি। তবে এর নিরাপত্তা নির্ভর করে খামারে পালন, ওষুধের ব্যবহার, জবাই, পরিবহন, সংরক্ষণ ও রান্নার পদ্ধতির ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খামারে অ্যান্টিবায়োটিকের অপ্রয়োজনীয় বা মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার এবং জবাইয়ের আগে নির্ধারিত বিরতি না মানলে মাংসে ওষুধের অবশিষ্টাংশ থাকার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। প্রাণিসম্পদ খাতে অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বাড়াতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।
ব্রয়লার মুরগিকে দ্রুত বড় করতে হরমোন দেওয়া হয়, এমন ধারণা ব্যাপকভাবে প্রচলিত। তবে দ্রুত বৃদ্ধির প্রধান কারণ উন্নত জাত নির্বাচন, সুষম খাদ্য, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ ও আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্যনিরাপত্তা কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, পোলট্রির বৃদ্ধির জন্য স্টেরয়েড হরমোন অনুমোদিত নয়।
কাঁচা মুরগির মাংসে সালমোনেলা, ক্যাম্পিলোব্যাক্টার ও ক্লস্ট্রিডিয়াম পারফ্রিনজেন্সের মতো রোগজীবাণু থাকতে পারে। ফলে মাংস ঠিকমতো রান্না না করলে খাদ্যে বিষক্রিয়া হতে পারে। কাঁচা মাংসের রস অন্য খাবারে লাগলেও জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষজ্ঞরা কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখা, মাংস ধরার পর হাত ও ব্যবহৃত সরঞ্জাম পরিষ্কার করা এবং ভেতরের অংশ সম্পূর্ণ সিদ্ধ হওয়া পর্যন্ত রান্নার পরামর্শ দেন। পোলট্রি মাংসের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা কমপক্ষে ৭৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানো নিরাপদ বলে নির্দেশনা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ।
চামড়াবিহীন ব্রয়লার মাংস পরিমিত পরিমাণে খাওয়া সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। দেশি ও ব্রয়লার উভয় মুরগিই প্রোটিনের ভালো উৎস। তবে মাংসের নিরাপত্তার জন্য বিশ্বস্ত বিক্রেতা থেকে কেনা, দুর্গন্ধযুক্ত বা অস্বাভাবিক রঙের মাংস এড়িয়ে চলা এবং যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও রান্না করা জরুরি।
মন্তব্যসমূহ