ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে সমর্থন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
সোমবার সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা এবং এর জবাবে সৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর দুই পক্ষের উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর এটিকে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় সীমান্তপারের সামরিক উত্তেজনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি যুবরাজ সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে আগেই ট্রাম্পকে অবহিত করেন এবং ওয়াশিংটনের সমর্থন চান। পরে ফোনালাপে ট্রাম্প তাঁকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানান। সৌদি নেতৃত্ব বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তা চাইছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন। পরদিন রুবিও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। এরপর ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজের মধ্যে ফোনালাপ হয় বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত ইরানের মাহান এয়ারের একটি উড়োজাহাজের সানা যাত্রাকে কেন্দ্র করে। বিমানটিতে হুতি প্রতিনিধিরা ছিলেন, যারা ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির শেষকৃত্যে অংশ নিতে তেহরানে গিয়েছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর ইরান থেকে হুতি নিয়ন্ত্রিত সানায় সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হওয়ায় সৌদি আরব উদ্বেগ প্রকাশ করে।
ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকার জানিয়েছে, ইরানি বিমানটিকে অবতরণে বাধা দিতেই সানা বিমানবন্দরের রানওয়েতে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, বিমানটি ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছিল। তবে হুতিরা এ হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করেছে।
হামলার কারণে ইরানি বিমানটি সানায় অবতরণ না করে হুতি নিয়ন্ত্রিত হুদাইদাহ শহরে চলে যায়। এক মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, বিমানটিতে হুতিদের জন্য অস্ত্রের যন্ত্রাংশ ও সামরিক বিশেষজ্ঞ বহন করা হচ্ছিল। তবে এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
জবাবে হুতিরা সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ে। একই সঙ্গে সানা বিমানবন্দরের ওপর অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার না করতে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে সতর্ক করে তারা।
নতুন করে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর সংঘাতে নতুন একটি যুদ্ধক্ষেত্র যুক্ত হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।
সূত্র: অ্যাক্সিওস
মন্তব্যসমূহ