গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে তাকে আত্মসমর্পণ করে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইন অনুযায়ী আত্মসমর্পণ করতে হবে। এরপর তার বিরুদ্ধে থাকা সাজা ও মামলার বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন দণ্ডিত আসামি আত্মসমর্পণ না করে বিদেশে অবস্থান করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিলে সেটিকে আইনি প্রক্রিয়ার বিকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার মতে, এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে আত্মগোপনে থাকা দলীয় নেতা-কর্মীদের সক্রিয় করার চেষ্টা করা হতে পারে।
তিনি জানান, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ আগে থেকেই চলমান রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে আলোচনা ও যোগাযোগ অব্যাহত আছে। এর আগেও শামা ওবায়েদ জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে দেশে ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।
শেখ হাসিনা কোথায় আত্মসমর্পণ করবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি বিদেশে বাংলাদেশের কোনো মিশনে অথবা দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করতে পারেন। তবে স্থান যেখানেই হোক, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাকে সাজা ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিদেশে অবস্থানরত কোনো আসামির রাজনৈতিক বক্তব্যকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দেবে না। আদালতের রায় এবং সরকারের চলমান আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়াই এ ক্ষেত্রে মূল বিষয়।
সম্প্রতি শেখ হাসিনা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আগামী ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরে দলীয় নেতাদের সঙ্গে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্যের বিষয়ে নয়াদিল্লির সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নে শামা ওবায়েদ বলেন, দুই দেশের নিয়মিত কূটনৈতিক আলোচনায় সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তোলা হচ্ছে। তবে সব আলোচনা প্রকাশ্যে জানানো হয় না।
মন্তব্যসমূহ