ঢাকা    শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

উক্রেনেই তৈরি হবে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র, অনুমতি দিলেন ট্রাম্প

বদলে যাচ্ছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চিত্র

উক্রেনেই তৈরি হবে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র, অনুমতি দিলেন ট্রাম্প
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টর উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অধিকার দেবে এবং উৎপাদনপ্রক্রিয়াও শেখাবে। 

প্যাট্রিয়ট বর্তমানে ইউক্রেনের হাতে থাকা রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর একটি। কিন্তু রাশিয়ার হামলা বেড়ে যাওয়ায় এর ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমছে। 

জেলেনস্কি জানিয়েছেন, প্যাট্রিয়ট উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক পর্যায়ে সমঝোতা হয়েছে। তবে উৎপাদন কোথায় হবে, কখন শুরু হবে এবং কোন মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এতে যুক্ত থাকবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত চুক্তি হয়নি।

ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান মজুত থেকে ইউক্রেনকে সরাসরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়া হবে না। এর পরিবর্তে লাইসেন্সের মাধ্যমে ইউক্রেন বা ইউরোপের কোনো দেশে উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হতে পারে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেনে সরাসরি উৎপাদন শুরু করতে অন্তত এক বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। কারণ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য জটিল সরবরাহব্যবস্থা, বিশেষায়িত যন্ত্রাংশ, প্রশিক্ষিত জনবল এবং নিরাপদ উৎপাদনকেন্দ্র প্রয়োজন। প্রাথমিকভাবে জার্মানি বা ইউরোপের অন্য কোনো দেশে উৎপাদন শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। 

প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থায় শুধু ক্ষেপণাস্ত্র নয়, মোবাইল লঞ্চার, শক্তিশালী রাডার এবং নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রও থাকে। এসব উপাদানের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমেই শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ধ্বংস করা সম্ভব হয়। 

বিশ্লেষকদের মতে, লাইসেন্স পাওয়ার সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অগ্রগতি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে রুশ হামলা ঠেকাতে এর সুফল পাওয়া যাবে না। এ কারণে কিয়েভ এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে প্রস্তুত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম চেয়ে যাচ্ছে।

এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ক্রমেই ড্রোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর হয়ে উঠছে। নজরদারি, সরবরাহ ব্যবস্থা ধ্বংস, সেনাদের অবস্থান শনাক্ত এবং দূরপাল্লার হামলায় দুই পক্ষই ব্যাপকভাবে ড্রোন ব্যবহার করছে। রাশিয়া ইউক্রেনের ড্রোন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে ইলেকট্রনিক জ্যামিং প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়িয়েছে। 

ইউক্রেনের দাবি, নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে রাশিয়ার সঙ্গে আকাশযুদ্ধে শক্তির ভারসাম্য তৈরি করা সম্ভব হবে। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে কোনো পক্ষের চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করা কঠিন।

ট্রাম্পের ঘোষণাকে জেলেনস্কির জন্য বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হলেও প্যাট্রিয়ট উৎপাদনের বাস্তব প্রক্রিয়া, অর্থায়ন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনকে এখনো বিস্তারিত সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগ : ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


উক্রেনেই তৈরি হবে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র, অনুমতি দিলেন ট্রাম্প

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬

featured Image

রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টর উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অধিকার দেবে এবং উৎপাদনপ্রক্রিয়াও শেখাবে। 

প্যাট্রিয়ট বর্তমানে ইউক্রেনের হাতে থাকা রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর একটি। কিন্তু রাশিয়ার হামলা বেড়ে যাওয়ায় এর ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমছে। 

জেলেনস্কি জানিয়েছেন, প্যাট্রিয়ট উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক পর্যায়ে সমঝোতা হয়েছে। তবে উৎপাদন কোথায় হবে, কখন শুরু হবে এবং কোন মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এতে যুক্ত থাকবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত চুক্তি হয়নি।

ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান মজুত থেকে ইউক্রেনকে সরাসরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়া হবে না। এর পরিবর্তে লাইসেন্সের মাধ্যমে ইউক্রেন বা ইউরোপের কোনো দেশে উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হতে পারে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেনে সরাসরি উৎপাদন শুরু করতে অন্তত এক বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। কারণ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য জটিল সরবরাহব্যবস্থা, বিশেষায়িত যন্ত্রাংশ, প্রশিক্ষিত জনবল এবং নিরাপদ উৎপাদনকেন্দ্র প্রয়োজন। প্রাথমিকভাবে জার্মানি বা ইউরোপের অন্য কোনো দেশে উৎপাদন শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। 

প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থায় শুধু ক্ষেপণাস্ত্র নয়, মোবাইল লঞ্চার, শক্তিশালী রাডার এবং নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রও থাকে। এসব উপাদানের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমেই শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ধ্বংস করা সম্ভব হয়। 

বিশ্লেষকদের মতে, লাইসেন্স পাওয়ার সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অগ্রগতি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে রুশ হামলা ঠেকাতে এর সুফল পাওয়া যাবে না। এ কারণে কিয়েভ এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে প্রস্তুত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম চেয়ে যাচ্ছে।

এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ক্রমেই ড্রোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর হয়ে উঠছে। নজরদারি, সরবরাহ ব্যবস্থা ধ্বংস, সেনাদের অবস্থান শনাক্ত এবং দূরপাল্লার হামলায় দুই পক্ষই ব্যাপকভাবে ড্রোন ব্যবহার করছে। রাশিয়া ইউক্রেনের ড্রোন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে ইলেকট্রনিক জ্যামিং প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়িয়েছে। 

ইউক্রেনের দাবি, নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে রাশিয়ার সঙ্গে আকাশযুদ্ধে শক্তির ভারসাম্য তৈরি করা সম্ভব হবে। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে কোনো পক্ষের চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করা কঠিন।

ট্রাম্পের ঘোষণাকে জেলেনস্কির জন্য বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হলেও প্যাট্রিয়ট উৎপাদনের বাস্তব প্রক্রিয়া, অর্থায়ন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনকে এখনো বিস্তারিত সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে।

সূত্র: রয়টার্স


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ