ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষ্যে রাজধানীতে এক নজিরবিহীন ও সুবিশাল ‘সার্বভৌমত্ব’ র্যালির সফল আয়োজন করেছে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) রাজধানীতে আয়োজিত এই ঐতিহাসিক শোভাযাত্রায় সরাসরি পায়ে হেঁটে নেতাকর্মীদের সাথে অংশ নেন দলটির চেয়ারম্যান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিকাল ৩টার কিছু পর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সম্মুখ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বর্ণাঢ্য র্যালির উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। রাজধানী ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার লাখ লাখ নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকা বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। স্লোগানে স্লোগানে মুখর নেতাকর্মীদের হাতে শোভা পাচ্ছিল বাংলাদেশের লাল-সবুজ জাতীয় পতাকা এবং স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড।
র্যালি শুরুর আগে বিকাল পৌনে ৩টা থেকে ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অস্থায়ী মঞ্চে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য এই সার্বভৌমত্ব শোভাযাত্রাটি কাকরাইল মোড়, প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবন, হেয়ার রোড, মিন্টো রোড, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার ও ফার্মগেট এলাকা অতিক্রম করে জাতীয় সংসদ ভবনের সম্মুখস্থ ঐতিহাসিক মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।
ঐতিহাসিক এই মিছিলে প্রধানমন্ত্রীর সাথে পদযাত্রায় অংশ নেন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যবৃন্দ। তাঁদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সমাজকল্যাণ ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এজেডএম ডা. জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান এবং ফরহাদ হালিম ডোনার।
এ ছাড়া মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, দলের যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, দলের কোষাধ্যক্ষ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২০ বছর পর কোনো রাজনৈতিক বাধা বা দমন-পীড়ন ছাড়াই সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও মুক্ত পরিবেশে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করল দলটি। দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদী অপশাসনের দেড় দশকে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটভূমি ও সিপাহি-জনতার জাতীয় সংহতি নিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হয়েছিল এবং ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছিল। ফলে দেশের নতুন প্রজন্ম স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এই ঐতিহাসিক দিনের গুরুত্ব অনুধাবন থেকে বঞ্চিত ছিল। গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর এবার জাতীয়ভাবে এই দিবসের সঠিক ইতিহাস ও বিপ্লবের তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের সামনে সগৌরবে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।














মন্তব্যসমূহ