ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ ৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বেনজীরকে ইউএই থেকে ফেরানো সম্ভব: শিশির মনির

বেনজীরকে ইউএই থেকে ফেরানো সম্ভব: শিশির মনির
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির। ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির।

সোমবার (১৫ জুন) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া: একটি সারসংক্ষেপ’ শিরোনামে দেওয়া পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।


শিশির মনির বলেন, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বর্তমানে কার্যকর কোনো দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। তবে ২০১৪ সালে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন সিকিউরিটি কো-অপারেশন’ এবং ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন ট্রান্সফার অব সেন্টেন্সড প্রিজনার্স’ বিচারিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে।

তিনি জানান, প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও বাংলাদেশের ‘এক্সট্রাডিশন অ্যাক্ট, ১৯৭৪’-এর ধারা ৪ অনুযায়ী সরকার চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে আইনের আওতায় প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে পারে।

ফেসবুক পোস্টে শিশির মনির উল্লেখ করেন, ইউএইর আইনের অধীনে গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে কূটনৈতিক মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তাব প্রস্তুত করবে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক চ্যানেলে তা পাঠাবে এবং বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো সার্বক্ষণিক সমন্বয় করবে।


প্রত্যর্পণ আবেদনের সঙ্গে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, এফআইআর, চার্জশিট বা তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ, অভিযুক্তের পরিচয় ও নাগরিকত্বের তথ্য, অপরাধের বিবরণ, প্রাসঙ্গিক আইন এবং অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণাদি সংযুক্ত করতে হবে বলেও জানান তিনি।

শিশির মনিরের মতে, আবেদন পাওয়ার পর ইউএইর আদালত কয়েকটি বিষয় যাচাই করবে। এর মধ্যে রয়েছে অভিযোগকৃত অপরাধ ইউএইর আইনেও অপরাধ কি না, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না এবং বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার পর অভিযুক্ত ন্যায়সঙ্গত ও নিরপেক্ষ বিচার পাবেন কি না।

অতীতের উদাহরণ হিসেবে তিনি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ খান হত্যা মামলার আসামি মোহসিন মিয়া ও আরিফ সরকারকে দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তার মতে, যথাযথ নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট দেশের সহযোগিতা থাকলে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সফল হতে পারে।

সবশেষে শিশির মনির বলেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নির্ভর করবে তিনটি বিষয়ের ওপর। এগুলো হলো শক্তিশালী আইনি নথিপত্র, অভিযুক্তের পরিচয় ও মামলার তথ্যের নির্ভুল উপস্থাপন এবং ধারাবাহিক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সফল হলে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে।

সূত্র: শিশির মনিরের ফেসবুক পোস্ট


ট্যাগ : শিশির মনির বেনজীর আহমেদ

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বেনজীরকে ইউএই থেকে ফেরানো সম্ভব: শিশির মনির

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির।

সোমবার (১৫ জুন) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া: একটি সারসংক্ষেপ’ শিরোনামে দেওয়া পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।


শিশির মনির বলেন, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বর্তমানে কার্যকর কোনো দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। তবে ২০১৪ সালে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন সিকিউরিটি কো-অপারেশন’ এবং ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন ট্রান্সফার অব সেন্টেন্সড প্রিজনার্স’ বিচারিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে।

তিনি জানান, প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও বাংলাদেশের ‘এক্সট্রাডিশন অ্যাক্ট, ১৯৭৪’-এর ধারা ৪ অনুযায়ী সরকার চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে আইনের আওতায় প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে পারে।

ফেসবুক পোস্টে শিশির মনির উল্লেখ করেন, ইউএইর আইনের অধীনে গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে কূটনৈতিক মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তাব প্রস্তুত করবে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক চ্যানেলে তা পাঠাবে এবং বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো সার্বক্ষণিক সমন্বয় করবে।


প্রত্যর্পণ আবেদনের সঙ্গে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, এফআইআর, চার্জশিট বা তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ, অভিযুক্তের পরিচয় ও নাগরিকত্বের তথ্য, অপরাধের বিবরণ, প্রাসঙ্গিক আইন এবং অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণাদি সংযুক্ত করতে হবে বলেও জানান তিনি।

শিশির মনিরের মতে, আবেদন পাওয়ার পর ইউএইর আদালত কয়েকটি বিষয় যাচাই করবে। এর মধ্যে রয়েছে অভিযোগকৃত অপরাধ ইউএইর আইনেও অপরাধ কি না, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না এবং বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার পর অভিযুক্ত ন্যায়সঙ্গত ও নিরপেক্ষ বিচার পাবেন কি না।

অতীতের উদাহরণ হিসেবে তিনি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ খান হত্যা মামলার আসামি মোহসিন মিয়া ও আরিফ সরকারকে দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তার মতে, যথাযথ নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট দেশের সহযোগিতা থাকলে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সফল হতে পারে।

সবশেষে শিশির মনির বলেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নির্ভর করবে তিনটি বিষয়ের ওপর। এগুলো হলো শক্তিশালী আইনি নথিপত্র, অভিযুক্তের পরিচয় ও মামলার তথ্যের নির্ভুল উপস্থাপন এবং ধারাবাহিক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সফল হলে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে।

সূত্র: শিশির মনিরের ফেসবুক পোস্ট



বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ