রাজধানীর মিরপুরে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের আড়ালে ‘বিশেষ উদ্দেশ্য’ বাস্তবায়নের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রাজপথে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীদের আপাতদৃষ্টিতে কোনোভাবেই প্রকৃত পোশাকশ্রমিক বলে মনে হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ডিএমপির পিওএম (পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট) দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) তৌহিদুল আরিফ। জননিরাপত্তা রক্ষা ও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বর্তমান সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
ডিসি তৌহিদুল আরিফ বলেন, "কিছু চিহ্নিত দুষ্কৃতকারী সামগ্রিক পরিস্থিতি অশান্ত ও বিনষ্ট করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। তারা মিরপুর-১১ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছিল। আপনারা দেখেছেন, পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে আমরা আরও কঠোর হব।"
আন্দোলনকারীদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন, "বর্তমানে যারা রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের চালচলন ও আচরণে কাউকেই প্রকৃত অর্থে গার্মেন্টস কর্মী বা কারখানার শ্রমিক বলে মনে হচ্ছে না। আমাদের জোরালো ধারণা, তারা ভিন্ন কোনো অসৎ ও বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে। সে কারণেই আমরা তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করার পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছি।"
মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, সকালে আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে অতর্কিত ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহত ও গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো সম্ভব হয়নি; পরবর্তীতে বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করা হবে। বর্তমানে মিরপুরের প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো নাশকতাকারী অলিগলিতে লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের বিশেষ টহল ও তল্লাশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে সকালে মিরপুরে আন্দোলনকারীদের হাতে এক পুলিশ সদস্যকে লাঠিপেটা করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রসঙ্গে ডিসি তৌহিদুল আরিফ জানান, ভিডিও ফুটেজটি পুলিশের নজরে এসেছে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি পরিশেষে বলেন, "আমার স্পষ্ট ধারণা, সাধারণ ও নিরীহ শ্রমিকরা এখন বিশৃঙ্খলার মাঠে নেই। তারা হয়তো নিজ নিজ কারখানায় নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করছেন অথবা ছুটি থাকায় বাসায় অবস্থান করছেন। ফলে বর্তমানে যারা রাস্তায় সহিংসতা ছড়াচ্ছে, তাদের রাজনৈতিক বা নাশকতামূলক কোনো গোপন এজেন্ডা রয়েছে বলে আমাদের মনে হচ্ছে। তাদের পেছনে কারও ইন্ধন বা মদদ রয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।"
মন্তব্যসমূহ