ঢাকা    রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ ২০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের ঘোরাফেরা দেখলে গ্রেফতার: ডিআইজি

সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের ঘোরাফেরা দেখলে গ্রেফতার: ডিআইজি
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সিদের নানা সামাজিক অপরাধ নির্মূলে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে সন্ধ্যার পর রাস্তায় অপ্রয়োজনে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ঘোরাফেরা করতে দেখলে তাদের গ্রেফতার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করে জানান, সমাজ থেকে কিশোর গ্যাং পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের বহুমুখী প্রতিরোধমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ সুভাষ হলে জেলা পুলিশ আয়োজিত ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সামাজিক অপরাধ দমন’ শীর্ষক এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।

অভিভাবক ও শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে ডিআইজি বলেন, বর্তমান সময়ে অনেক ছেলে-মেয়ের ওপর পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি থাকছে না। যে বয়সে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা নিয়ে পড়ালেখায় ব্যস্ত থাকার কথা, সেই সময়ে তারা বিকেলে ও সন্ধ্যায় বিভিন্ন অলিগলিতে আড্ডা দিচ্ছে এবং পথচলতি মানুষের উদ্দেশে অশোভন অঙ্গভঙ্গি ও শিস দেওয়ার মতো আচরণে জড়াচ্ছে। পারিবারিক শাসন ও সচেতন তদারকির মারাত্মক ঘাটতির কারণেই মূলত কিশোর গ্যাংয়ের মতো উদ্বেগজনক সামাজিক সমস্যার বিস্তার ঘটছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কিশোর গ্যাং এই দেশ থেকে সমূলে নির্মূল করব। সমাজে কিশোর গ্যাং বলতে কোনো অপরাধী বলয় থাকতে দেওয়া হবে না। এই সামাজিক ব্যাধি উপড়ে ফেলতে জেলা পুলিশের প্রতিরোধমূলক যাবতীয় আইনি পদক্ষেপ চলমান থাকবে।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন কক্সবাজার পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মাবুদ, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান এবং জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম।

বক্তারা উল্লেখ করেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারে বহুমাত্রিক অপরাধের ঝুঁকি রয়েছে। সম্প্রতি জেলা পুলিশ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে কেবল পুলিশের ওপর নির্ভর না করে কিশোর অপরাধসহ সব ধরনের সামাজিক অনাচার প্রতিরোধে রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ নাগরিকদের সমন্বিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তাঁরা।

ট্যাগ : কিশোর গ্যাং নির্মূল অভিযান ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের ঘোরাফেরা দেখলে গ্রেফতার: ডিআইজি

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সিদের নানা সামাজিক অপরাধ নির্মূলে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে সন্ধ্যার পর রাস্তায় অপ্রয়োজনে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ঘোরাফেরা করতে দেখলে তাদের গ্রেফতার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করে জানান, সমাজ থেকে কিশোর গ্যাং পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের বহুমুখী প্রতিরোধমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ সুভাষ হলে জেলা পুলিশ আয়োজিত ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সামাজিক অপরাধ দমন’ শীর্ষক এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।

অভিভাবক ও শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে ডিআইজি বলেন, বর্তমান সময়ে অনেক ছেলে-মেয়ের ওপর পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি থাকছে না। যে বয়সে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা নিয়ে পড়ালেখায় ব্যস্ত থাকার কথা, সেই সময়ে তারা বিকেলে ও সন্ধ্যায় বিভিন্ন অলিগলিতে আড্ডা দিচ্ছে এবং পথচলতি মানুষের উদ্দেশে অশোভন অঙ্গভঙ্গি ও শিস দেওয়ার মতো আচরণে জড়াচ্ছে। পারিবারিক শাসন ও সচেতন তদারকির মারাত্মক ঘাটতির কারণেই মূলত কিশোর গ্যাংয়ের মতো উদ্বেগজনক সামাজিক সমস্যার বিস্তার ঘটছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কিশোর গ্যাং এই দেশ থেকে সমূলে নির্মূল করব। সমাজে কিশোর গ্যাং বলতে কোনো অপরাধী বলয় থাকতে দেওয়া হবে না। এই সামাজিক ব্যাধি উপড়ে ফেলতে জেলা পুলিশের প্রতিরোধমূলক যাবতীয় আইনি পদক্ষেপ চলমান থাকবে।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন কক্সবাজার পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মাবুদ, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান এবং জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম।

বক্তারা উল্লেখ করেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারে বহুমাত্রিক অপরাধের ঝুঁকি রয়েছে। সম্প্রতি জেলা পুলিশ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে কেবল পুলিশের ওপর নির্ভর না করে কিশোর অপরাধসহ সব ধরনের সামাজিক অনাচার প্রতিরোধে রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ নাগরিকদের সমন্বিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তাঁরা।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ