ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বাংলাদেশকে গভীরভাবে সমর্থন করে জাপান: প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি

বাংলাদেশকে গভীরভাবে সমর্থন করে জাপান: প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

বাংলাদেশের প্রতি জাপানের দৃঢ় সমর্থনের কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।

স্থানীয় সময় দুপুর পৌনে ১২টার দিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-তে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার সম্পর্ক আরও গভীর করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, জাপান বাংলাদেশকে গভীরভাবে সমর্থন করে। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় টোকিও।

এর আগে কানতেইতে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী। এ সময় জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। দুই প্রধানমন্ত্রী পাশাপাশি দাঁড়িয়ে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন। পরে তারেক রহমান গার্ড পরিদর্শন করেন।

আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁর সফরসঙ্গীদের সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন। অন্যদিকে সানায়ে তাকাইচি তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে তারেক রহমানের পরিচয় করিয়ে দেন।

পরে কানতেইর মূল কক্ষে প্রবেশের আগে পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুই সরকারপ্রধান একান্ত বৈঠকে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর উপলক্ষে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাওয়ার দীর্ঘ সড়কের দুই পাশে বাংলাদেশ ও জাপানের জাতীয় পতাকা টানানো হয়।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে কানতেইতে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন সানায়ে তাকাইচি। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মধ্যাহ্নভোজে দুই প্রধানমন্ত্রী স্বাগত বক্তব্য ও শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্ব

চার দিনের জাপান সফরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন এবং দেশটির শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে সোমবার সকালে টোকিও পৌঁছান তারেক রহমান। নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে।

সফরের প্রথম দিন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদল, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

তারো আসোর সঙ্গে আলোচনায় ২০০৬ সালে জাপানে তাঁদের সাক্ষাতের স্মৃতি তুলে ধরেন তারেক রহমান। দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে সাবেক এই জাপানি প্রধানমন্ত্রীর অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে আবার বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।

পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এসব তথ্য জানিয়েছেন।

জ্বালানি, প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা

জাপানের অন্যতম বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিশেষ করে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়ন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, জ্বালানি এবং উন্নত উৎপাদনশিল্প খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো উঠে আসে।

আলোচনায় কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন এবং বাংলাদেশে দ্বিতীয় একটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনাও গুরুত্ব পায়।

অন্যদিকে জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্পগুলোয় জাপানের চলমান সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।

একই সঙ্গে চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন দ্রুত করা এবং বাংলাদেশ-জাপান দক্ষতা অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রস্তাব নিয়ে মতবিনিময় করেন তাঁরা।

বাংলাদেশে একটি প্রযুক্তি গ্রাম ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে। কৃষি আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশলশিল্প এবং জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী যাঁরা

জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

সরকারি প্রতিনিধিদলে রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

এ ছাড়া রয়েছেন ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

সফরসঙ্গীদের মধ্যে আরও রয়েছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী এবং আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমান এর আগে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যান তিনি।

জাপান সফরের মধ্য দিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধান আলোচনা করছেন।

ট্যাগ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক সানায়ে তাকাইচি

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


বাংলাদেশকে গভীরভাবে সমর্থন করে জাপান: প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের প্রতি জাপানের দৃঢ় সমর্থনের কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।

স্থানীয় সময় দুপুর পৌনে ১২টার দিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-তে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার সম্পর্ক আরও গভীর করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, জাপান বাংলাদেশকে গভীরভাবে সমর্থন করে। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় টোকিও।

এর আগে কানতেইতে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী। এ সময় জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। দুই প্রধানমন্ত্রী পাশাপাশি দাঁড়িয়ে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন। পরে তারেক রহমান গার্ড পরিদর্শন করেন।

আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁর সফরসঙ্গীদের সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন। অন্যদিকে সানায়ে তাকাইচি তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে তারেক রহমানের পরিচয় করিয়ে দেন।

পরে কানতেইর মূল কক্ষে প্রবেশের আগে পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুই সরকারপ্রধান একান্ত বৈঠকে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর উপলক্ষে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাওয়ার দীর্ঘ সড়কের দুই পাশে বাংলাদেশ ও জাপানের জাতীয় পতাকা টানানো হয়।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে কানতেইতে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন সানায়ে তাকাইচি। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মধ্যাহ্নভোজে দুই প্রধানমন্ত্রী স্বাগত বক্তব্য ও শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্ব

চার দিনের জাপান সফরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন এবং দেশটির শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে সোমবার সকালে টোকিও পৌঁছান তারেক রহমান। নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে।

সফরের প্রথম দিন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদল, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

তারো আসোর সঙ্গে আলোচনায় ২০০৬ সালে জাপানে তাঁদের সাক্ষাতের স্মৃতি তুলে ধরেন তারেক রহমান। দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে সাবেক এই জাপানি প্রধানমন্ত্রীর অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে আবার বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।

পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এসব তথ্য জানিয়েছেন।

জ্বালানি, প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা

জাপানের অন্যতম বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিশেষ করে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়ন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, জ্বালানি এবং উন্নত উৎপাদনশিল্প খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো উঠে আসে।

আলোচনায় কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন এবং বাংলাদেশে দ্বিতীয় একটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনাও গুরুত্ব পায়।

অন্যদিকে জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্পগুলোয় জাপানের চলমান সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।

একই সঙ্গে চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন দ্রুত করা এবং বাংলাদেশ-জাপান দক্ষতা অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রস্তাব নিয়ে মতবিনিময় করেন তাঁরা।

বাংলাদেশে একটি প্রযুক্তি গ্রাম ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে। কৃষি আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশলশিল্প এবং জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী যাঁরা

জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

সরকারি প্রতিনিধিদলে রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

এ ছাড়া রয়েছেন ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

সফরসঙ্গীদের মধ্যে আরও রয়েছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী এবং আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমান এর আগে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যান তিনি।

জাপান সফরের মধ্য দিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধান আলোচনা করছেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ