ঢাকা    সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সিরাজগঞ্জে গরু চুরি ঠেকাতে ২৫০টির বেশি বাঁশকল, রাত জেগে পাহারায় গ্রামবাসী ও পুলিশ

পুলিশ সুপারের প্রশংসায় গ্রামবাসী

সিরাজগঞ্জে গরু চুরি ঠেকাতে ২৫০টির বেশি বাঁশকল, রাত জেগে পাহারায় গ্রামবাসী ও পুলিশ
ফলো করুন

সিরাজগঞ্জে গবাদিপশু চুরি ও বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে জেলার বিভিন্ন স্থানে চালু রয়েছে বাঁশকল প্রথা। গ্রামীণ সড়কে বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রাত ১২টার পর যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। গ্রামবাসী, গ্রাম পুলিশ ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত এ উদ্যোগের ফলে গবাদিপশু চুরি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে বলে জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ সাইফুল ইসলাম সানতু, বিপিএম(বার)।

জেলা পুলিশের এ উদ্যোগের আওতায় আদিত্য বাড়িয়া, লবনকোটা, সিরা-১২, বন্যার মোড়, মাইঝাইল, ব্রহ্মগাছা, দোস্তপাড়া ও সমেশপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বাঁশকল বসিয়ে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব স্থান ছাড়াও জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংযোগ সড়কের পয়েন্টে বাঁশকলের মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার জানান, গত কোরবানির ঈদ থেকে গবাদিপশু চুরি প্রতিরোধের লক্ষ্যে তিনি এ উদ্যোগ চালু করেন। গ্রামের ছোট রাস্তাগুলো দিয়ে রাতের আঁধারে ছোট যানবাহন ব্যবহার করে গবাদিপশু চুরি কিংবা অন্যান্য ছোটখাটো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা কমাতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলায় ২৫০টিরও বেশি বাঁশকল রয়েছে। জেলার সব থানার আওতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি পয়েন্টে গ্রামবাসী, গ্রাম পুলিশ ও পুলিশের তত্ত্বাবধানে কমিটি গঠন করে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পাহারায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের টর্চলাইট ও বাঁশি সরবরাহ করা হয়েছে। গ্রামবাসীরা পালাক্রমে রাতের পাহারায় অংশ নেন। এতে প্রতিটি গ্রামের বাসিন্দাদের মাসে আনুমানিক একবার পাহারার দায়িত্ব পালন করতে হয়। সংশ্লিষ্ট বিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) কার্যক্রমটি তদারকি করেন। পুলিশ সুপার নিজেও নিয়মিত বাঁশকল পরিদর্শন করেন।

তিনি জানান, ঈদের পর অন্যান্য কার্যক্রমের ব্যস্ততায় বাঁশকল কার্যক্রম কিছুটা শিথিল হয়ে পড়েছিল। তবে প্রায় দুই মাস আগে পুনরায় ব্যাপকভাবে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি রাতেই বাঁশকলের পাহারা ও তদারকির তথ্য পুলিশের নির্ধারিত গ্রুপে প্রকাশ করা হচ্ছে।

এ উদ্যোগ পুনরায় জোরদার করার পর জেলায় গবাদিপশু চুরির ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। গ্রামবাসী ও পুলিশের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গ্রামীণ নিরাপত্তা জোরদার এবং চুরি প্রতিরোধে বাঁশকল প্রথা কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

ট্যাগ : পুলিশ সুপারের উদ্যোগে খুশি গ্রামবাসী প্রশংসায় ভাসছেন তিনি

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


সিরাজগঞ্জে গরু চুরি ঠেকাতে ২৫০টির বেশি বাঁশকল, রাত জেগে পাহারায় গ্রামবাসী ও পুলিশ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সিরাজগঞ্জে গবাদিপশু চুরি ও বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে জেলার বিভিন্ন স্থানে চালু রয়েছে বাঁশকল প্রথা। গ্রামীণ সড়কে বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রাত ১২টার পর যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। গ্রামবাসী, গ্রাম পুলিশ ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত এ উদ্যোগের ফলে গবাদিপশু চুরি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে বলে জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ সাইফুল ইসলাম সানতু, বিপিএম(বার)।


জেলা পুলিশের এ উদ্যোগের আওতায় আদিত্য বাড়িয়া, লবনকোটা, সিরা-১২, বন্যার মোড়, মাইঝাইল, ব্রহ্মগাছা, দোস্তপাড়া ও সমেশপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বাঁশকল বসিয়ে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব স্থান ছাড়াও জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংযোগ সড়কের পয়েন্টে বাঁশকলের মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে।


সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার জানান, গত কোরবানির ঈদ থেকে গবাদিপশু চুরি প্রতিরোধের লক্ষ্যে তিনি এ উদ্যোগ চালু করেন। গ্রামের ছোট রাস্তাগুলো দিয়ে রাতের আঁধারে ছোট যানবাহন ব্যবহার করে গবাদিপশু চুরি কিংবা অন্যান্য ছোটখাটো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা কমাতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


পুলিশ সুপারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলায় ২৫০টিরও বেশি বাঁশকল রয়েছে। জেলার সব থানার আওতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি পয়েন্টে গ্রামবাসী, গ্রাম পুলিশ ও পুলিশের তত্ত্বাবধানে কমিটি গঠন করে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।


পাহারায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের টর্চলাইট ও বাঁশি সরবরাহ করা হয়েছে। গ্রামবাসীরা পালাক্রমে রাতের পাহারায় অংশ নেন। এতে প্রতিটি গ্রামের বাসিন্দাদের মাসে আনুমানিক একবার পাহারার দায়িত্ব পালন করতে হয়। সংশ্লিষ্ট বিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) কার্যক্রমটি তদারকি করেন। পুলিশ সুপার নিজেও নিয়মিত বাঁশকল পরিদর্শন করেন।


তিনি জানান, ঈদের পর অন্যান্য কার্যক্রমের ব্যস্ততায় বাঁশকল কার্যক্রম কিছুটা শিথিল হয়ে পড়েছিল। তবে প্রায় দুই মাস আগে পুনরায় ব্যাপকভাবে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি রাতেই বাঁশকলের পাহারা ও তদারকির তথ্য পুলিশের নির্ধারিত গ্রুপে প্রকাশ করা হচ্ছে।


এ উদ্যোগ পুনরায় জোরদার করার পর জেলায় গবাদিপশু চুরির ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। গ্রামবাসী ও পুলিশের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গ্রামীণ নিরাপত্তা জোরদার এবং চুরি প্রতিরোধে বাঁশকল প্রথা কার্যকর ভূমিকা রাখছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ