নতুন সরকারের শপথ পড়াবেন কে?

- আপডেট: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 11
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত গণভোট সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দেশের ২৯৯টি আসনে ৪২ হাজারের বেশি কেন্দ্রে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে দুই-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি আসন নিয়ে সরকার গঠনের দিকে এগিয়ে আছে বিএনপি জোট—এমন চিত্রই সামনে আসছে।
নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে জনমনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে আরেকটি বিষয়—নতুন সরকারের শপথগ্রহণ প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে এবং কে শপথ পড়াবেন। সাধারণত নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনা করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সংসদ না থাকায় স্পিকারও নেই। ফলে শপথ পাঠ পরিচালনার দায়িত্ব কে পালন করবেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
এই অনিশ্চয়তার ভেতর সংবিধানে শপথ গ্রহণের বিকল্প ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ আছে। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি শপথ পাঠ পরিচালনা করবেন। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করানোর জন্য কাউকে মনোনীত করতে পারেন। তবে রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি যদি কোনো কারণে ওই সময়সীমার মধ্যে শপথ পড়াতে ব্যর্থ হন বা তা না করেন, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ পাঠ পরিচালনা করবেন—এমন বিধান রয়েছে অনুচ্ছেদটিতে।
এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গত ৫ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায় সরকার। তিনি জানান, শপথগ্রহণে সরকারের সামনে দুটি পথ আছে—রাষ্ট্রপতির মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ পড়াতে পারেন, উদাহরণ হিসেবে প্রধান বিচারপতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। আর এটি না হলে সংবিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারবেন। তবে সে ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী কিছুটা অপেক্ষা করতে হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
শপথ কত দিনের মধ্যে হতে পারে—এ প্রশ্নেও অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি আছে। সাধারণভাবে অনেকে ধরে নেন, ফল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যেই শপথ নিতে হয়। কিন্তু সংবিধানের ভাষ্য অনুযায়ী বিষয়টি বেসরকারি ফলাফলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। কারণ শপথগ্রহণের সময় গণনা শুরু হয় নির্বাচনের ফলাফল ‘সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত’ হওয়ার পর। ফলে বেসরকারি ফল প্রকাশের পর গেজেট প্রকাশে কয়েক দিন সময় লাগলে শপথগ্রহণও সেই অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে হতে পারে।
সব মিলিয়ে নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে গেজেট প্রকাশ, রাষ্ট্রপতির মনোনয়ন এবং শপথ পাঠ আয়োজন—এই তিন বিষয়ের দিকেই এখন রাজনৈতিক ও জনসাধারণের নজর।






























