যুদ্ধের আতঙ্কে জনমানুষ উদ্বিগ্ন ইরানে

- আপডেট: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 14
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার শঙ্কায় ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির ভেতরে ও বাইরে থাকা ইরানিরা মানসিকভাবে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
গত ৩০ জানুয়ারি রাত থেকে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় হামলা চালাতে পারে। অনেক মানুষ সারা রাত ঘুমাতে পারেননি। তেহরানের ৪৩ বছর বয়সী এক প্রকৌশলী জানান, বিস্ফোরণের আশঙ্কায় বারবার জেগে উঠেছেন। ৩১ জানুয়ারি সকালে অনেক ইরানি একে অপরকে জানিয়েছেন, হামলা খুব কাছে এসেছে। বয়স্ক নাগরিকদের মধ্যেও ভয় বিরাজ করছে। কেউ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে, আবার অনেকে আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ হলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
গত এক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে প্রকাশ্যে হামলার হুমকি দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবহরের উপস্থিতি এবং ইসরায়েল ও সৌদি আরবের সঙ্গে অস্ত্রচুক্তি ইরানিদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
অর্থনৈতিক সংকট ও গত বছরের বিক্ষোভ দমনের প্রেক্ষাপটেও ইরান চরম চাপের মধ্যে রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে হাজারো মানুষ নিহত হওয়ার খবর এখনও মানুষের মনে তাজা।
মানুষ নিজেদের সুরক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যমে যুদ্ধকালীন সতর্কতার পরামর্শ ছড়িয়ে পড়েছে—খাবার ও পানি মজুত রাখা, জরুরি ওষুধ সংগ্রহ, পরিচয়পত্র এক জায়গায় রাখা এবং দ্রুত সরে যাওয়ার প্রস্তুতি। তেহরানের অনেক বাসিন্দা জানালার কাচ সিল করছেন, কেউ কেউ কয়েক মাসের ওষুধ কিনে রেখেছেন। এক প্রবীণ নাগরিক বলেন, “যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে জানি আগে থেকেই সাবধান হওয়াই ভালো।”
উদ্বেগ কেবল ইরানের ভেতরে নয়, প্রবাসী প্রায় ৪০ লাখ ইরানির মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। তারা ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন, যা হলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হারাতে পারেন। বিদেশে থাকা অনেক ইরানি তাদের পরিবারের সদস্যদের শহর ছাড়তে বলেছেন। তবে অনেক বৃদ্ধ নিরাপদ জায়গা না থাকায় যেতে রাজি নন।
শহরগুলো আপাতদৃষ্টিতে স্বাভাবিক হলেও—দোকানপাট খোলা, স্কুল চলছে, যান চলাচল স্বাভাবিক—মানুষের মনে গভীর ভয় কাজ করছে। এক তরুণ শিক্ষার্থী বলেন, “আগের যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কারণে মানুষ এখন জানে যুদ্ধ কেমন হয়। তাই আতঙ্কের চেয়ে মানসিক প্রস্তুতিই বেশি।





























