ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না: স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ

ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না: স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জনগণ এবং সশস্ত্র বাহিনী যে কোনো সামরিক হুমকি ও আগ্রাসনের মুখে কখনো আত্মসমর্পণ করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির জাতীয় সংসদের (মজলিস) স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি মন্তব্য করেছেন, সামরিক চাপ ও অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেইল প্রয়োগ করে ইরানকে নতজানু করার স্বপ্ন দেখে শত্রুরা মূলত ‘বোকার স্বর্গে’ বাস করছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) ইরানের জাতীয় সংসদের নিয়মিত অধিবেশনের প্রারম্ভিক ভাষণে স্পিকার গালিবাফ এই বক্তব্য দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানি জাতির বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের শত্রুতা ও বৈরিতার মূল কারণ হলো দেশটির জনগণের আপসহীন প্রতিরোধ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃঢ় অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাকামী মানসিকতা।

ইরানি স্পিকার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই ইরানকে গ্রাস করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে আসছে এবং সুযোগ পেলেই তারা সেই অভিসন্ধি বাস্তবায়নে সক্রিয় হয়ে ওঠে। একসময় তারা অনুগত ও পদলেহী তাঁবেদার শাসকদের মাধ্যমে ইরানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখত। কিন্তু বর্তমান যুগে ঐক্যবদ্ধ ইরানি জনগণের শক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়ে তারা এখন সামরিক হামলা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বহুমাত্রিক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের নোংরা কৌশল বেছে নিয়েছে। তিনি যোগ করেন, ইরানিদের এই স্বাধীনতা ও সাহসিকতা সমগ্র বিশ্বের নিপীড়িত জাতিগুলোর জন্য আজ অনুপ্রেরণার প্রতীকে রূপ নিয়েছে।

গালিবাফ আরও বলেন, ইরানি জনগণের অনমনীয় অবস্থান দখলদার ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী ও তাদের পৃষ্ঠপোষক ওয়াশিংটনকে সম্পূর্ণ দিশেহারা করে তুলেছে। ধারাবাহিক রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যর্থতার পর তারা মাঝেমধ্যেই সামরিক হামলার ভয় দেখিয়ে তেহরানকে নতজানু করার চেষ্টা করে। তবে অতীতে পরাধীন যুগের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীন হওয়া ইরান কখনো কোনো আধিপত্যবাদীর কাছে মাথা নত করবে না।

সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি সতর্ক করেন যে, চাপিয়ে দেওয়া দুটি যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের আঞ্চলিক মিত্ররা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের খবরদারির দিন শেষ হয়ে এসেছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের নির্দেশনায় সম্ভাব্য সব ধরনের আগ্রাসন মোকাবিলার সুনির্দিষ্ট সামরিক কৌশল ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। শত্রুপক্ষ কোনো ভুল হিসাব-নিকাশ করলে কোনো প্রকার ভৌগোলিক সীমারেখার তোয়াক্কা না করে এমন এক সামরিক ও কৌশলগত প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে, যা তাদের ধারণারও বাইরে। গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইরানের প্রতিটি যোদ্ধা ট্রিগারে আঙুল রেখে সার্বক্ষণিক যুদ্ধের প্রস্তুতি বজায় রেখেছে, তবে সংঘাত পরিহারের একটি শক্তিশালী ও যুক্তিসংগত বার্তাও ওয়াশিংটনে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে; ফলে এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধ এড়ানোর পূর্ণ দায়িত্ব তাদেরই।

ট্যাগ : মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না: স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জনগণ এবং সশস্ত্র বাহিনী যে কোনো সামরিক হুমকি ও আগ্রাসনের মুখে কখনো আত্মসমর্পণ করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির জাতীয় সংসদের (মজলিস) স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি মন্তব্য করেছেন, সামরিক চাপ ও অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেইল প্রয়োগ করে ইরানকে নতজানু করার স্বপ্ন দেখে শত্রুরা মূলত ‘বোকার স্বর্গে’ বাস করছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) ইরানের জাতীয় সংসদের নিয়মিত অধিবেশনের প্রারম্ভিক ভাষণে স্পিকার গালিবাফ এই বক্তব্য দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানি জাতির বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের শত্রুতা ও বৈরিতার মূল কারণ হলো দেশটির জনগণের আপসহীন প্রতিরোধ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃঢ় অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাকামী মানসিকতা।

ইরানি স্পিকার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই ইরানকে গ্রাস করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে আসছে এবং সুযোগ পেলেই তারা সেই অভিসন্ধি বাস্তবায়নে সক্রিয় হয়ে ওঠে। একসময় তারা অনুগত ও পদলেহী তাঁবেদার শাসকদের মাধ্যমে ইরানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখত। কিন্তু বর্তমান যুগে ঐক্যবদ্ধ ইরানি জনগণের শক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়ে তারা এখন সামরিক হামলা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বহুমাত্রিক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের নোংরা কৌশল বেছে নিয়েছে। তিনি যোগ করেন, ইরানিদের এই স্বাধীনতা ও সাহসিকতা সমগ্র বিশ্বের নিপীড়িত জাতিগুলোর জন্য আজ অনুপ্রেরণার প্রতীকে রূপ নিয়েছে।

গালিবাফ আরও বলেন, ইরানি জনগণের অনমনীয় অবস্থান দখলদার ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী ও তাদের পৃষ্ঠপোষক ওয়াশিংটনকে সম্পূর্ণ দিশেহারা করে তুলেছে। ধারাবাহিক রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যর্থতার পর তারা মাঝেমধ্যেই সামরিক হামলার ভয় দেখিয়ে তেহরানকে নতজানু করার চেষ্টা করে। তবে অতীতে পরাধীন যুগের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীন হওয়া ইরান কখনো কোনো আধিপত্যবাদীর কাছে মাথা নত করবে না।

সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি সতর্ক করেন যে, চাপিয়ে দেওয়া দুটি যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের আঞ্চলিক মিত্ররা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের খবরদারির দিন শেষ হয়ে এসেছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের নির্দেশনায় সম্ভাব্য সব ধরনের আগ্রাসন মোকাবিলার সুনির্দিষ্ট সামরিক কৌশল ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। শত্রুপক্ষ কোনো ভুল হিসাব-নিকাশ করলে কোনো প্রকার ভৌগোলিক সীমারেখার তোয়াক্কা না করে এমন এক সামরিক ও কৌশলগত প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে, যা তাদের ধারণারও বাইরে। গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইরানের প্রতিটি যোদ্ধা ট্রিগারে আঙুল রেখে সার্বক্ষণিক যুদ্ধের প্রস্তুতি বজায় রেখেছে, তবে সংঘাত পরিহারের একটি শক্তিশালী ও যুক্তিসংগত বার্তাও ওয়াশিংটনে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে; ফলে এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধ এড়ানোর পূর্ণ দায়িত্ব তাদেরই।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ