নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই: ডিএমপি কমিশনার

- আপডেট: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 15
ঢাকা মহানগরে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় আরও ভালো রয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় আছে।
ডিএমপি কমিশনার জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজনের লক্ষ্যে ঢাকায় বিস্তৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মহানগর এলাকায় মোট ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ঝুঁকি ও গুরুত্ব বিবেচনায় এসব কেন্দ্রকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৬১৪টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে চারজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। ৫১৭টি সাধারণ কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন তিনজন করে পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া ৩৭টি কেন্দ্রকে অধিক সংবেদনশীল হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে সাতজন করে পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।
তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স সার্বক্ষণিক সক্রিয় থাকবে। সংবেদনশীল কেন্দ্রগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হবে বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা। পাশাপাশি বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোয়াটসহ বিশেষায়িত ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, নানা কারণে এবারের নির্বাচন পুলিশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যে বিতর্ক ও সমালোচনা ছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে একটি গ্রহণযোগ্য ও অর্থবহ নির্বাচন উপহার দেওয়াই তাদের লক্ষ্য। তিনি বলেন, যে ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে দেশ আজ একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে এসেছে, সেই অর্জন রক্ষায় পুলিশ ইস্পাতকঠিন মনোবল নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে।
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই যেন নিশ্চিন্তে, নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করেন। নতুন বাংলাদেশ গঠনের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
নির্বাচন ঘিরে কোনো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা হুমকি আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, বাস্তবতা দেখলেই বোঝা যায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়েও ভালো। কোথাও অবরোধ নেই, বড় ধরনের অপরাধ বা অস্থিরতা নেই। তিনি বলেন, তিন কোটি মানুষের শহর ঢাকায় নানা সামাজিক বাস্তবতা থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন সন্তোষজনক।
নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে আতঙ্ক বা সংশয়ের কোনো কারণ নেই। সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনে এক পক্ষ জয়ী হয়, অন্য পক্ষ পরাজিত হয়—পরাজয়ের পর কারচুপির অভিযোগ ওঠা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে। তবে গুজব বা অপপ্রচার বাস্তবতাকে বদলাতে পারবে না।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়েও আশ্বস্ত করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় সাংবাদিকসহ সব পেশার মানুষই অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। কারও নিরাপত্তাহানির শঙ্কা নেই বলে তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে অতীতের কিছু বিতর্কিত ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দায়িত্বের জায়গা থেকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়াই পুলিশের কাজ। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ডিএমপি কমিশনার হিসেবে সে দায়িত্ব পালন করতেই তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান।
সব মিলিয়ে, ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্যে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কোনো কারণ নেই বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

























