ঢাকা ০৮:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তে যা বললেন চরমোনাই পীর

বাংলা ভিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 8

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

বিবৃতিতে চরমোনাই পীর বলেন, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধের এই সিদ্ধান্ত কোনো স্বাভাবিক বা যুক্তিসংগত নির্দেশনা নয়। তাঁর মতে, এর পেছনে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে জনমনে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের এমন সিদ্ধান্তে তারা বিস্মিত এবং উদ্বিগ্ন।

তিনি বলেন, সাধারণত অপরাধ বা অনিয়মের আশঙ্কা থাকলেই তথ্যের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ও তথ্যপ্রবাহ বন্ধ করতে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল। তবে মানুষের হাতে মোবাইল থাকায় তখন অনেক ঘটনার প্রমাণ সংরক্ষণ সম্ভব হয়েছিল। এখন ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ করে সেই প্রমাণ সংগ্রহের পথ বন্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

ইসির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নির্বাচন নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে এবং ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। এতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও অনাস্থা তৈরি হচ্ছে। তাই অবিলম্বে এ নির্দেশনা বাতিল করে স্বচ্ছ ও প্রশ্নবিদ্ধহীন নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

একই সঙ্গে নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে চরমোনাই পীর বলেন, ভোটের দিনে কোনো ধরনের কারসাজি বা অনিয়মের চেষ্টা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না। ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতে হবে এবং ফলাফল যথাযথভাবে জাতির সামনে উপস্থাপন করতে হবে।

এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রে নারী কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি। চরমোনাই পীর বলেন, অনেক নারী শরিয়াহ অনুযায়ী পর্দা মেনে চলেন। প্রয়োজনে তাদের পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নারী কর্মকর্তার ব্যবস্থা রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই পর্দানশীন নারীকে পুরুষের সামনে নেকাব খুলতে বাধ্য করা উচিত নয়।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের সব সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা ও জনআস্থা বজায় রাখা জরুরি।

শেয়ার করুন

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তে যা বললেন চরমোনাই পীর

আপডেট: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

বিবৃতিতে চরমোনাই পীর বলেন, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধের এই সিদ্ধান্ত কোনো স্বাভাবিক বা যুক্তিসংগত নির্দেশনা নয়। তাঁর মতে, এর পেছনে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে জনমনে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের এমন সিদ্ধান্তে তারা বিস্মিত এবং উদ্বিগ্ন।

তিনি বলেন, সাধারণত অপরাধ বা অনিয়মের আশঙ্কা থাকলেই তথ্যের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ও তথ্যপ্রবাহ বন্ধ করতে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল। তবে মানুষের হাতে মোবাইল থাকায় তখন অনেক ঘটনার প্রমাণ সংরক্ষণ সম্ভব হয়েছিল। এখন ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ করে সেই প্রমাণ সংগ্রহের পথ বন্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

ইসির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নির্বাচন নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে এবং ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। এতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও অনাস্থা তৈরি হচ্ছে। তাই অবিলম্বে এ নির্দেশনা বাতিল করে স্বচ্ছ ও প্রশ্নবিদ্ধহীন নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

একই সঙ্গে নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে চরমোনাই পীর বলেন, ভোটের দিনে কোনো ধরনের কারসাজি বা অনিয়মের চেষ্টা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না। ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতে হবে এবং ফলাফল যথাযথভাবে জাতির সামনে উপস্থাপন করতে হবে।

এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রে নারী কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি। চরমোনাই পীর বলেন, অনেক নারী শরিয়াহ অনুযায়ী পর্দা মেনে চলেন। প্রয়োজনে তাদের পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নারী কর্মকর্তার ব্যবস্থা রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই পর্দানশীন নারীকে পুরুষের সামনে নেকাব খুলতে বাধ্য করা উচিত নয়।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের সব সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা ও জনআস্থা বজায় রাখা জরুরি।