আলোচনা ইতিবাচক, মার্কিন হামলার শঙ্কা কাটেনি

- আপডেট: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 24
ওমানের রাজধানী মাসকটে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ইরান। তবে এই বৈঠক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কা দূর করার মতো কোনো স্পষ্ট নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে তেহরান।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মাসকট-এ অনুষ্ঠিত ওই আলোচনায় ইরানের নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তাঁর জামাতা জারেড কুশনার। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে ছিলেন মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা, সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার।
বৈঠক শেষে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক বক্তব্যে আরাঘচি বলেন, পরোক্ষ এই আলোচনার শুরুটা ভালো হয়েছে। তবে পরবর্তী ধাপে আলোচনা কীভাবে এগোবে, সে বিষয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আরও পরামর্শ প্রয়োজন।
একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পরিবেশ এখনো গভীর অবিশ্বাসে ঘেরা। তার মতে, গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘটিত ১২ দিনের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণ এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলাই এই অবিশ্বাসের মূল কারণ। বিশেষ করে ওই হামলা নির্ধারিত আলোচনার কয়েক দিন আগেই চালানো হয়েছিল।
আরাঘচি জানান, দুই দেশই আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী হলেও কবে ও কোথায় পরবর্তী বৈঠক হবে, সে বিষয়ে এখনো ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি।
এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে ওমান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথকভাবে একাধিক দফা বৈঠক করেন এবং দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করেন।
আল বুসাইদি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষের অবস্থান পরিষ্কার হয়েছে এবং কোন কোন বিষয়ে অগ্রগতি সম্ভব, তা চিহ্নিত করা গেছে। তাঁর ভাষায়, ‘উপযুক্ত সময়ে আবারও আলোচনায় বসাই আমাদের লক্ষ্য।’
ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল কূটনৈতিক ও তথ্যভিত্তিক আলোচনায় ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করা।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক সপ্তাহে ইরানের নিকটবর্তী পারস্য উপসাগর এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ার প্রেক্ষাপটেই মাসকটের এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাম্প এ উপস্থিতিকে বড় রণতরি বহর হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নতুন পারমাণবিক চুক্তি না হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে আলোচনার আগে ইরানও জানিয়ে দেয়, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক দাবি বা হঠকারী পদক্ষেপের’ বিরুদ্ধে তারা আত্মরক্ষায় প্রস্তুত। একই সঙ্গে তেহরান বলেছে, কূটনীতির পথ খোলা রাখার এই সুযোগ তারা নষ্ট করতে চায় না।
ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র চীন জানিয়েছে, তারা তেহরানের অবস্থানকে সমর্থন করে এবং ওয়াশিংটনের একতরফা চাপের বিরোধিতা করে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, ইরানের ‘শূন্য পারমাণবিক সক্ষমতা’ নিশ্চিত করার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। তাঁর মতে, প্রেসিডেন্টের হাতে এখনো একাধিক বিকল্প পথ খোলা রয়েছে।
ওয়াশিংটনের প্রধান দাবি হলো—ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করতে হবে। পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তার বিষয়ও আলোচনায় প্রভাব ফেলছে।





























