ভারতের খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, প্রাণ গেল ১৮ জনের

- আপডেট: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 26
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল মেঘালয়ে অনুমোদনহীন একটি কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৮ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। খনিটির ভেতরে আরও শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে মেঘালয়ের ইস্ট জৈন্তিয়া হিলস জেলার দুর্গম থাঙ্কসু এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় খনিটিতে কতজন শ্রমিক কাজ করছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দুর্গম পথ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে থেমে যায়। তবে শুক্রবার সকাল থেকে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় উদ্ধারদল যুক্ত হয়ে নতুন করে অনুসন্ধান চালানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পুলিশ খনিটিকে “অবৈধ র্যাট-হোল” ধরনের খনি হিসেবে উল্লেখ করেছে। এ ধরনের খনিতে সরু ও গভীর টানেল থাকে, যেখানে শ্রমিকরা অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে কয়লা ও অন্যান্য খনিজ উত্তোলন করেন।
জেলা পুলিশপ্রধান বিকাশ কুমার জানান, প্রাথমিকভাবে ডিনামাইট থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে ধারণা করা হলেও বিষয়টি তদন্তাধীন। তিনি বলেন, শ্রমিকরা হয় দগ্ধ হয়ে, নয়তো বিষাক্ত গ্যাস বা ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টে মারা গিয়ে থাকতে পারেন। তবে ভেতরে ঠিক কী ঘটেছে এবং কতজন আটকে আছেন, তা নিশ্চিত করার মতো প্রত্যক্ষদর্শী এখনও পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর অবৈধ খনন বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কংরাড সাংমা দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিহতদের পরিবারের জন্য প্রত্যেকে ২ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অনুমোদনহীন খনিতে অবৈধ কয়লা উত্তোলন একটি পরিচিত সমস্যা। মেঘালয়ে ২০১৪ সাল থেকে পরিবেশ ও পানিদূষণজনিত উদ্বেগে র্যাট-হোল খনন নিষিদ্ধ রয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালেও রাজ্যটিতে এমন খনিতে আটকে পড়ে বহু শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল।





























