শবেবরাতেও যাদের প্রতি আল্লাহর ক্ষমা বর্ষণ হবে না

- আপডেট: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 24
পবিত্র শবেবরাত বা লাইলাতুল বরাত মুসলমানদের জন্য একটি বিশেষ রাত। হিজরি শাবান মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের মধ্যবর্তী এই রাতে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের প্রতি অশেষ রহমত বর্ষণ করেন। মুসলিমরা এ রাত নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও জিকিরে ব্যয় করেন। তবে শুধু একরাত ইবাদত করলেই সকল গুনাহ মাফ হয়ে যাবে—এ ধারণা সঠিক নয়।
শাবানের ১৪ তারিখ রাত থেকে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের প্রতি বিশেষ মনোযোগী হন। তিনি ঘোষণা দেন—কে আছে ক্ষমাপ্রার্থী, তাকে ক্ষমা করব; কে চায় রিযিক, তাকে দেব; কে বিপদগ্রস্ত, তাকে মুক্ত করব। তাই এই রাতে নিজের জন্য ও পরিবারের জন্য দোয়া করা উচিত।
কিন্তু এই মহিমান্বিত রাতেও দুই ধরনের মানুষ আল্লাহর ক্ষমা থেকে বঞ্চিত থাকবেন:
১. মুশরিক – যারা জীবনে শিরক করেন, অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে উপাস্য মনে করেন বা আল্লাহর ক্ষমতার সঙ্গে কাউকে অংশীদার মনে করেন।
২. মুশাহিন – যারা হিংসা বা বিদ্বেষ ধারণ করেন।
সাহাবি মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “মহান আল্লাহ অর্ধ-শাবানের রাতে তার সৃষ্টি প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।” (সহিহ ইবনে হিব্বান : ৫৬৬৫)
ইসলামে শিরক সর্বাপেক্ষা গুরুতর গুনাহ, আর হিংসা ও বিদ্বেষ মানুষের নেক আমল নষ্ট করে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “হিংসা থেকে দূরে থাকো। কারণ হিংসা নেক আমলকে এমনভাবে খেয়ে ফেলে, যেমন আগুন লাকড়িকে ভস্ম করে দেয়।” (সুনানে আবু দাউদ)
শবেবরাত ভাগ্য নির্ধারণের রাত নয়; ভাগ্য নির্ধারণ হয় লাইলাতুল কদরের রাতে। শবেবরাত হলো আল্লাহর বিশেষ রহমতের রাত, যা ধারাবাহিক ইবাদতকারীদের জন্য এক ধরনের সোনালি সুযোগ। তবে যারা আন্তরিকভাবে তওবা করে, নতুনভাবে আল্লাহর পথে ফিরে আসে, তারাও এই রাতে আল্লাহর বরকত পেতে পারেন।




























