ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা রাজধানী সানায় সৌদি বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। শনিবারের এ হামলার খবর দিয়েছে হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম আল-মাসিরা। একই দিনে ইয়েমেনের মোখা শহর ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ২০টি বিমান হামলার খবরও প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
আল-মাসিরার প্রতিবেদনে সানার পশ্চিমাঞ্চলীয় আসর এলাকায় একটি বাড়িতে হামলার কথা বলা হয়েছে। এতে অন্তত তিনজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়। সংবাদমাধ্যমটি উল্লেখ করেছে, হতাহতের এ সংখ্যা প্রাথমিক হিসাব। সানা গভর্নরেটের একটি সিমেন্ট কারখানায় পৃথক হামলার খবরও দিয়েছে তারা। তবে ওই ঘটনায় নিহত ও আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, হুতিদের ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। জোটের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় তায়েফ ও ইয়ানবুর দিকে ছোড়া হয়েছিল।
শনিবার সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা পশ্চিমাঞ্চলের চারটি এলাকায় সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা জারি করে। এলাকাগুলো হলো তায়েফ, ইয়ানবু, মক্কা ও জেদ্দা। বাসিন্দাদের নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও কয়েক মিনিটের মধ্যে সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। এ সময় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার কার্যক্রমের ছবি বা তথ্য প্রকাশ না করার বিষয়ে আইনি সতর্কতাও পুনর্ব্যক্ত করে সংস্থাটি।
সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুতি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা ও উত্তেজনা সৃষ্টির নিন্দা জানিয়েছেন তুরস্ক, মিসর, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ অবস্থান জানানো হয়।
বিবৃতিতে সৌদি ভূখণ্ডে বেসামরিক নাগরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হামলার সমালোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলারও নিন্দা জানান মন্ত্রীরা।
তাদের মতে, হুতিদের এসব কর্মকাণ্ড লোহিত সাগরের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি এবং এর ফলে মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। বৈঠকে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সরকারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। একই সঙ্গে হুতি বাহিনীকে অবিলম্বে সব ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে শান্তি আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানান তারা।
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীলতার জন্য ইসরায়েলের দখলদারিত্বমূলক নীতিকেও অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের আরেকটি দাবি অনুযায়ী, ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতিরা রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সেটি শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে বলে জানিয়েছেন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আল-মালিকি এ তথ্য জানান। এদিকে, রিয়াদে শনিবার ভোরে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন বার্তা সংস্থা এএফপির এক সাংবাদিক। সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে বাসিন্দাদের সতর্ক করতে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থাও সক্রিয় করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা।
তবে ইয়েমেনে বিমান হামলা এবং সৌদিমুখী ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দাবির বাইরে স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
মন্তব্যসমূহ