যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যকার চুক্তির পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল পাঠাচ্ছে মস্কো। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার পরিশোধিত ডিজেলবোঝাই একটি বাণিজ্যিক ট্যাংকার নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে স্থানীয় বাজারে ডিজেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে চলতি মাসে এ সমঝোতার ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
এই চুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়ার ওপর আরোপিত কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ধারায় সাময়িক ছাড় দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়তে ইউরোপীয় দেশগুলোকে চাপ দিয়েছেন; অন্যথায় ইউরোপে মার্কিন ডিজেল রপ্তানি বন্ধের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
জাহাজ চলাচলের তথ্য সরবরাহকারী সংস্থা এলএসইজির (LSEG) ডেটা অনুযায়ী, মাল্টার পতাকাবাহী মাঝারি আকারের তেল ট্যাংকার ‘আগিওই ফানেন্দেস’ (Agioi Fanendes) গত ২২ অক্টোবর রাশিয়ার বাল্টিক সাগর তীরবর্তী প্রিমোরস্ক বন্দর ছাড়ে। জাহাজটিতে ৪০ হাজার টন অতি-নিম্ন সালফারযুক্ত ডিজেল রয়েছে, যা আগামী ৭ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক বন্দরে নোঙর করার কথা। তবে এই চালানের ক্রেতা ও বিক্রেতার পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
২০২২ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে রাশিয়ার তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানিতে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। সেই নিষেধাজ্ঞার পর এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো রুশ ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে চুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়াও ডিজেল রপ্তানির ওপর নিজস্ব বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করেছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেছেন যে, চুক্তির আওতায় প্রথম তেলবাহী জাহাজ ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানোর উদ্দেশে রওনা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও চালান পাঠানো হবে।
এর আগে গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, এ চুক্তির আওতায় রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে প্রাথমিক পর্যায়ে ৩ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করবে এবং নভেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে তা আরও বাড়ানো হবে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ