যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রভাবশালী কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর ‘ভুয়া নাম’ ব্যবহার করে কংগ্রেসে শপথ নিয়েছেন এমন অভিযোগ তুলে তাঁর অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনকে ওমরের আসনটি শূন্য ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে ওমরের কার্যালয় থেকে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, “শপথ নেওয়ার সময় তিনি যেহেতু ভুয়া নাম ব্যবহার করেছেন, তাই আমার ধারণা, তাঁর অবিলম্বে কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করা উচিত।” মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত এই মুসলিম নারী আইনপ্রণেতার প্রকৃত নাম ‘ইলহান নুর সাইদ এলমি’ বলে দাবি করেন ট্রাম্প। নামটির শেষাংশ ওমরের সাবেক স্বামী আহমেদ নুর সাইদ এলমির নামের সঙ্গে মিলে যায়। পোস্টে ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে ওমর নিজেই প্রতারণার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন; যদিও বাস্তবে ইলহান ওমর এমন কোনো বক্তব্য দেননি এবং কোনো আদালতও তাঁর নাম জালিয়াতির প্রমাণ পাননি।
ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের আগে গত ২১ অক্টোবর মার্কিন বিচার বিভাগ আদালতে একটি আনুষ্ঠানিক নথি দাখিল করে। ওয়াশিংটন ডিসিতে ওমরের বাসায় কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) তল্লাশি-সংক্রান্ত ওই নথিতে তাঁর নাম উল্লেখ করা হয় ‘ইলহান নুর সাইদ এলমি, ওরফে ইলহান আবদুল্লাহি ওমর’। তবে সরকারি আইনজীবীরা বিকল্প এই নাম ব্যবহারের কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেননি এবং নথিতে ওমর কোনো জালিয়াতি করেছেন এমন কোনো সিদ্ধান্ত বা অভিযোগও লিপিবদ্ধ করেননি। ওমরের মুখপাত্র ফক্স নিউজকে বলেন, “এসব দাবি পুরোপুরি মিথ্যা ও অপপ্রচার; ইলহান ওমরই তাঁর আইনগত ও প্রকৃত নাম।”
উল্লেখ্য, অভিবাসন ও নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত নথিপত্রে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগের চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গত ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটনে ওমরের বাসভবনে তল্লাশি চালায় এফবিআই। ২০০০ সালে বৈধভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করা ইলহান ওমর তাঁর বিরুদ্ধে আনা যাবতীয় অভিযোগ নাকচ করে আসছেন। তাঁর দাবি, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে ভয় দেখাতে ও কোণঠাসা করতেই ট্রাম্প প্রশাসন বিচার বিভাগ ও গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করছে।
সূত্র: ফক্স নিউজ
মন্তব্যসমূহ