দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২০৭ জনে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১ হাজার ৩২ জন রোগী ভর্তির তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
বুলেটিন অনুযায়ী, বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে চলতি বছর নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুই শ্রেণি মিলিয়ে মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২০৭ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে নিয়মিত পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর আগের দিনগুলোতেও হাসপাতালে বিপুলসংখ্যক রোগী ভর্তি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
সর্বশেষ প্রতিবেদনে নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যায় ঢাকা বিভাগ শীর্ষে রয়েছে। বিভাগটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এরপর চট্টগ্রাম বিভাগে ২০০ জন এবং সিলেটে ১২৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ছাড়া বরিশালে ৯৪ জন, খুলনায় ৮১ জন, ময়মনসিংহে ৬৫ জন, রংপুরে ৩০ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ২১ জন নতুন রোগী ভর্তির তথ্য দেওয়া হয়েছে।
তবে বিভাগভিত্তিক এই আটটি সংখ্যার যোগফল ১ হাজার ২১ জন, যা বুলেটিনের বরাতে প্রকাশিত মোট ১ হাজার ৩২ জনের তুলনায় ১১ জন কম। এ পার্থক্যের কারণ মূল পরিসংখ্যানে যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় দুই লাখে পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১ লাখ ৯৩ হাজার ৬০৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯২৭ জন।
একই সময়ে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬০ জনে। তাঁদের মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজার ২৪৮ জনের শরীরে।
অর্থাৎ, সন্দেহজনক হামের রোগীদের একটি অংশের সংক্রমণ পরীক্ষায় নিশ্চিত হলেও অন্যদের ক্ষেত্রে উপসর্গের ভিত্তিতে তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।
নিশ্চিত হামে মৃত্যু এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর হিসাবও আলাদাভাবে প্রকাশ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ফলে উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছিল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।
সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, একদিনে নতুন করে দুজনের মৃত্যুর পাশাপাশি হাসপাতালে সহস্রাধিক রোগী ভর্তির ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে।
মন্তব্যসমূহ