ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

তুরস্ক, পাকিস্তান, কাতার ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে 'বদর চুক্তি' সই

তুরস্ক, পাকিস্তান, কাতার ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে 'বদর চুক্তি' সই
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার এবং সামরিক খাতে যৌথ প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে তুরস্ক, পাকিস্তান, কাতার ও ইন্দোনেশিয়া। বুধবার (২১ অক্টোবর) ‘বদর সমঝোতা স্মারক’ (Badr Memorandum of Understanding) নামে পরিচিত এই ঐতিহাসিক চুক্তির আনুষ্ঠানিক তথ্য নিশ্চিত করেছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, কাতারের রাজধানী দোহায় আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে চার দেশের উচ্চপর্যায়ের সামরিক ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে মুসলিমপ্রধান এই চারটি প্রভাবশালী রাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সক্ষমতা বিনিময়, উন্নত প্রযুক্তির রূপরেখা তৈরি এবং প্রতিরক্ষা খাতের বহুপাক্ষিক সমন্বয় গভীর করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ চুক্তির বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। এর আওতায় সামরিক সরঞ্জাম ও আধুনিক সমরাস্ত্রের যৌথ উৎপাদন বৃদ্ধি, আকাশ ও নৌ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার উন্নয়ন এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) কার্যক্রমে অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা হবে। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, চুক্তিভুক্ত চারটি দেশ তাদের নিজস্ব সামরিক সামর্থ্য, উন্নত প্রযুক্তি এবং দীর্ঘদিনের যুদ্ধকৌশলগত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একে অপরকে সমন্বিত সহায়তা প্রদান করবে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার এই রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে নিজস্ব প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা বাড়বে এবং প্রতিরক্ষা খাতে সম্মিলিত উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

মুসলিম বিশ্বের মধ্যে তুরস্ক একমাত্র দেশ, যারা পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর (NATO) সদস্য এবং জোটটির দ্বিতীয় বৃহত্তম সশস্ত্র বাহিনীর অধিকারী। দীর্ঘদিন ধরেই আঙ্কারা উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক অংশীদারত্ব বজায় রেখে চলেছে এবং কাতারে তাদের স্থায়ী সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে।

এর আগে গত আগস্টে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় সামরিক চুক্তিতে যুক্ত হয়েছিল তুরস্ক, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ‘মক্কা চুক্তি’ নামে পরিচিতি পায়। ওই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল—চুক্তিবদ্ধ কোনো একটি দেশ যদি বহিরাগত সশস্ত্র হামলার শিকার হয়, তবে অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো তাদের নিজস্ব সামরিক সামর্থ্য নিয়ে আক্রান্ত দেশকে সুরক্ষায় এগিয়ে আসবে। বিশ্লেষকদের মতে, ‘মক্কা চুক্তি’র পর এবার কাতার ও ইন্দোনেশিয়াকে যুক্ত করে সম্পাদিত নতুন এই ‘বদর চুক্তি’ মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী সামরিক শক্তিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে আরও সুসংহত ও বিস্তৃত করবে।

ট্যাগ : বদর সমঝোতা স্মারক

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


তুরস্ক, পাকিস্তান, কাতার ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে 'বদর চুক্তি' সই

প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার এবং সামরিক খাতে যৌথ প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে তুরস্ক, পাকিস্তান, কাতার ও ইন্দোনেশিয়া। বুধবার (২১ অক্টোবর) ‘বদর সমঝোতা স্মারক’ (Badr Memorandum of Understanding) নামে পরিচিত এই ঐতিহাসিক চুক্তির আনুষ্ঠানিক তথ্য নিশ্চিত করেছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, কাতারের রাজধানী দোহায় আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে চার দেশের উচ্চপর্যায়ের সামরিক ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে মুসলিমপ্রধান এই চারটি প্রভাবশালী রাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সক্ষমতা বিনিময়, উন্নত প্রযুক্তির রূপরেখা তৈরি এবং প্রতিরক্ষা খাতের বহুপাক্ষিক সমন্বয় গভীর করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ চুক্তির বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। এর আওতায় সামরিক সরঞ্জাম ও আধুনিক সমরাস্ত্রের যৌথ উৎপাদন বৃদ্ধি, আকাশ ও নৌ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার উন্নয়ন এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) কার্যক্রমে অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা হবে। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, চুক্তিভুক্ত চারটি দেশ তাদের নিজস্ব সামরিক সামর্থ্য, উন্নত প্রযুক্তি এবং দীর্ঘদিনের যুদ্ধকৌশলগত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একে অপরকে সমন্বিত সহায়তা প্রদান করবে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার এই রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে নিজস্ব প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা বাড়বে এবং প্রতিরক্ষা খাতে সম্মিলিত উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

মুসলিম বিশ্বের মধ্যে তুরস্ক একমাত্র দেশ, যারা পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর (NATO) সদস্য এবং জোটটির দ্বিতীয় বৃহত্তম সশস্ত্র বাহিনীর অধিকারী। দীর্ঘদিন ধরেই আঙ্কারা উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক অংশীদারত্ব বজায় রেখে চলেছে এবং কাতারে তাদের স্থায়ী সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে।

এর আগে গত আগস্টে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় সামরিক চুক্তিতে যুক্ত হয়েছিল তুরস্ক, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ‘মক্কা চুক্তি’ নামে পরিচিতি পায়। ওই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল—চুক্তিবদ্ধ কোনো একটি দেশ যদি বহিরাগত সশস্ত্র হামলার শিকার হয়, তবে অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো তাদের নিজস্ব সামরিক সামর্থ্য নিয়ে আক্রান্ত দেশকে সুরক্ষায় এগিয়ে আসবে। বিশ্লেষকদের মতে, ‘মক্কা চুক্তি’র পর এবার কাতার ও ইন্দোনেশিয়াকে যুক্ত করে সম্পাদিত নতুন এই ‘বদর চুক্তি’ মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী সামরিক শক্তিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে আরও সুসংহত ও বিস্তৃত করবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ