বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলি চালানোর চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর ভারতের বিনোদন জগতে তারকাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মুম্বাইয়ের শোবিজ অঙ্গনে চলমান এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে প্রবীণ ভজনশিল্পী অনুপ জালোটা মন্তব্য করেছেন যে, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাতে বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের উচিত বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া। তাঁর মতে, আন্তরিক এই একটি পদক্ষেপই উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করতে এবং বলিউডে শান্তি ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্প্রতি টাইগার শ্রফের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ ও অভিনয়শিল্পী। জ্যেষ্ঠ অভিনেতা সুনীল শেট্টি তীব্র শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এ ধরনের বেপরোয়া গুলিবর্ষণের ঘটনা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে অন্যান্য অভিনয়শিল্পীদের জীবনও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে। ফলে পুরো বিনোদন পাড়াজুড়ে সেলিব্রিটিদের নিরাপত্তা বলয় জোরদার করা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, সালমান খানকে কেন্দ্র করে কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের ধারাবাহিক প্রাণনাশের হুমকির প্রেক্ষাপটে অনুপ জালোটার এই পরামর্শ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী অনুপ জালোটা বলেন, ১৯৯৮ সালের বহুল আলোচিত কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের মামলাকে কেন্দ্র করে বছরের পর বছর ধরে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের ভেতর তীব্র ক্ষোভ ও ধর্মীয় অসন্তোষ জমে রয়েছে। সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ প্রশমিত করতে সালমানের পক্ষ থেকেই এগিয়ে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়া অত্যন্ত জরুরি। শিল্পী জানান, সামগ্রিক বৈরী পরিস্থিতি তাঁকে দারুণভাবে ব্যথিত করছে। সালমান যদি নিজস্ব অহংবোধ ভুলে ক্ষমা চেয়ে বিরোধ মেটানোর কার্যকর উদ্যোগ নেন, তবেই বর্তমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসার পথ তৈরি হতে পারে। এর আগেও একাধিকবার এমন পরামর্শ দেওয়া জালোটা সতর্ক করে বলেন, বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের গভীর ধর্মীয় অনুভূতি ও দীর্ঘদিনের অসন্তোষকে এড়িয়ে গিয়ে কেবল পুলিশি পাহারায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান অসম্ভব। পাশাপাশি এতে সালমান ছাড়াও তাঁর সঙ্গে কাজ করা অন্যান্য সহশিল্পী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
এদিকে টাইগার শ্রফের ওপর হামলার পরপরই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ও অডিও বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন ব্যক্তি এই হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে দাবি করা হয়। তবে ভারতীয় পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখনো এই অডিও বা বার্তার সত্যতা নিরপেক্ষভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে হামলার নেপথ্যে প্রকৃতপক্ষে কারা রয়েছে তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা থাকলেও, সালমান-বিষ্ণোই দ্বন্দ্বকে ঘিরে মুম্বাই চলচ্চিত্রের তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এখন চরমে।
মন্তব্যসমূহ