ঢাকা    মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নিকোটিন ছাড়ার কঠিন অভিজ্ঞতা জানালেন সেলেনা গোমেজ

নিকোটিন ছাড়ার কঠিন অভিজ্ঞতা জানালেন সেলেনা গোমেজ
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

নিকোটিনযুক্ত ভেপ ব্যবহারের কারণে নিজের কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রী সেলেনা গোমেজ। একই সঙ্গে সম্প্রতি নিকোটিনের ব্যবহার ছেড়ে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। ভেপিংয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নতুন করে এ অভ্যাস শুরু করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন এই তারকা।

রোববার (১৮ অক্টোবর) ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক পোস্টে ৩৪ বছর বয়সী সেলেনা নিজের কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেন। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বলেন, ‘আমি আমার কণ্ঠস্বর আর বদলাতে পারব না। আমি প্রচুর নিকোটিন ভেপ করেছি।’

ভেপ ছাড়ার কঠিন অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সেলেনা বলেন, ‘যারা নতুন ভেপ করার কথা ভাবছেন তাদের বলব, এটা মোটেও ভালো জিনিস নয়। এটা ভীষণ বোকামির কাজ, এর কারণে আমার গলাটাই বদলে গেছে।’

পরে হাসতে হাসতে নিজের কণ্ঠস্বর নিয়ে ভক্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তাই আপনারা যদি আমার কণ্ঠস্বর শুনতে পছন্দ না করেন, তাহলে সেটা পুরোপুরি বোধগম্য। আমি কিছু মনে করব না। শুধু আমার কণ্ঠস্বর শুনবেন না।’

ইনস্টাগ্রামের ওই ভিডিওতে ‘অনলি মার্ডারস ইন দ্য বিল্ডিং’ সিরিজের এই তারকা জানান, নিকোটিনের ব্যবহার ছেড়ে দিতে পেরে তিনি খুশি। তবে এই অভ্যাস থেকে দূরে থাকা ধরে রাখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে আশাবাদী থাকার পাশাপাশি নিজের উদ্বেগও প্রকাশ করেন তিনি।

সেলেনা বলেন, ‘আমি সত্যিই খুব খুশি, কারণ আমি এটা ছেড়ে দিয়েছি। আমি শুধু আশা করি, এটা ধরে রাখতে পারব।’

নিকোটিন ছাড়ার প্রক্রিয়াকে কঠিন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘এটা সত্যিই কঠিন। তবে আমি জানি, আপনি যদি কোনো কিছুর মধ্য দিয়ে যান, তাহলে আপনিও তা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। এটা খুবই কষ্টকর।’

দীর্ঘদিন ধরেই সেলেনার কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন নিয়ে ভক্তদের মধ্যে আলোচনা চলছে। ইউটিউবে তার কথা বলার ধরন সময়ের সঙ্গে কীভাবে বদলেছে, তা নিয়ে সংকলিত ভিডিওও প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। বয়স বাড়ার সঙ্গে কণ্ঠস্বর গভীর হওয়া স্বাভাবিক হলেও সেলেনা এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তার দীর্ঘস্থায়ী অটোইমিউন রোগ লুপাস স্বরযন্ত্রে প্রভাব ফেলছে।

২০১৭ সালে সেলেনার বন্ধু ফ্রান্সিয়া রাইসা তাকে একটি কিডনি দান করেন। এর ফলে তার লুপাস রোগ কিছু সময়ের জন্য নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে ২০২২ সালের তথ্যচিত্র ‘সেলেনা গোমেজ: মাই মাইন্ড অ্যান্ড মি’-তে তিনি জানান, ২০২০ সাল থেকে রোগটি আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।

সে সময় সেলেনা বলেছিলেন, ‘আমার লুপাস ধরা পড়েছিল এবং কেমোথেরাপিও নিয়েছি। মানসিকভাবে সুস্থ না হয়ে ওঠা পর্যন্ত সবার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলাম।’

লুপাসের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে হাত-পায়ের জয়েন্টে ব্যথা, জ্বর, ত্বকে ফুসকুড়ি, বুকে ব্যথা, চুল পড়া, কিডনির সমস্যা এবং প্রচণ্ড ক্লান্তি।

এদিকে, ভেপিংয়ের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আগের তুলনায় স্পষ্ট হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। সেলেনার কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন ভেপিংয়ের কারণেই হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


নিকোটিন ছাড়ার কঠিন অভিজ্ঞতা জানালেন সেলেনা গোমেজ

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নিকোটিনযুক্ত ভেপ ব্যবহারের কারণে নিজের কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রী সেলেনা গোমেজ। একই সঙ্গে সম্প্রতি নিকোটিনের ব্যবহার ছেড়ে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। ভেপিংয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নতুন করে এ অভ্যাস শুরু করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন এই তারকা।

রোববার (১৮ অক্টোবর) ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক পোস্টে ৩৪ বছর বয়সী সেলেনা নিজের কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেন। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বলেন, ‘আমি আমার কণ্ঠস্বর আর বদলাতে পারব না। আমি প্রচুর নিকোটিন ভেপ করেছি।’

ভেপ ছাড়ার কঠিন অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সেলেনা বলেন, ‘যারা নতুন ভেপ করার কথা ভাবছেন তাদের বলব, এটা মোটেও ভালো জিনিস নয়। এটা ভীষণ বোকামির কাজ, এর কারণে আমার গলাটাই বদলে গেছে।’

পরে হাসতে হাসতে নিজের কণ্ঠস্বর নিয়ে ভক্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তাই আপনারা যদি আমার কণ্ঠস্বর শুনতে পছন্দ না করেন, তাহলে সেটা পুরোপুরি বোধগম্য। আমি কিছু মনে করব না। শুধু আমার কণ্ঠস্বর শুনবেন না।’

ইনস্টাগ্রামের ওই ভিডিওতে ‘অনলি মার্ডারস ইন দ্য বিল্ডিং’ সিরিজের এই তারকা জানান, নিকোটিনের ব্যবহার ছেড়ে দিতে পেরে তিনি খুশি। তবে এই অভ্যাস থেকে দূরে থাকা ধরে রাখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে আশাবাদী থাকার পাশাপাশি নিজের উদ্বেগও প্রকাশ করেন তিনি।

সেলেনা বলেন, ‘আমি সত্যিই খুব খুশি, কারণ আমি এটা ছেড়ে দিয়েছি। আমি শুধু আশা করি, এটা ধরে রাখতে পারব।’

নিকোটিন ছাড়ার প্রক্রিয়াকে কঠিন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘এটা সত্যিই কঠিন। তবে আমি জানি, আপনি যদি কোনো কিছুর মধ্য দিয়ে যান, তাহলে আপনিও তা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। এটা খুবই কষ্টকর।’

দীর্ঘদিন ধরেই সেলেনার কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন নিয়ে ভক্তদের মধ্যে আলোচনা চলছে। ইউটিউবে তার কথা বলার ধরন সময়ের সঙ্গে কীভাবে বদলেছে, তা নিয়ে সংকলিত ভিডিওও প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। বয়স বাড়ার সঙ্গে কণ্ঠস্বর গভীর হওয়া স্বাভাবিক হলেও সেলেনা এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তার দীর্ঘস্থায়ী অটোইমিউন রোগ লুপাস স্বরযন্ত্রে প্রভাব ফেলছে।

২০১৭ সালে সেলেনার বন্ধু ফ্রান্সিয়া রাইসা তাকে একটি কিডনি দান করেন। এর ফলে তার লুপাস রোগ কিছু সময়ের জন্য নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে ২০২২ সালের তথ্যচিত্র ‘সেলেনা গোমেজ: মাই মাইন্ড অ্যান্ড মি’-তে তিনি জানান, ২০২০ সাল থেকে রোগটি আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।

সে সময় সেলেনা বলেছিলেন, ‘আমার লুপাস ধরা পড়েছিল এবং কেমোথেরাপিও নিয়েছি। মানসিকভাবে সুস্থ না হয়ে ওঠা পর্যন্ত সবার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলাম।’

লুপাসের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে হাত-পায়ের জয়েন্টে ব্যথা, জ্বর, ত্বকে ফুসকুড়ি, বুকে ব্যথা, চুল পড়া, কিডনির সমস্যা এবং প্রচণ্ড ক্লান্তি।

এদিকে, ভেপিংয়ের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আগের তুলনায় স্পষ্ট হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। সেলেনার কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন ভেপিংয়ের কারণেই হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ