বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ইতিহাস গড়েছে প্যারাগুয়ে। শক্তিশালী জার্মানিকে নাটকীয় টাইব্রেকারে হারিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার পর পুরো দেশে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপনের জন্য দেশজুড়ে একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এই বিশেষ ছুটির আওতায় থাকবে। সোমবার রাতে প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে দেওয়া এক ঘোষণায় জানানো হয়, জাতীয় ফুটবল দলের অসাধারণ অর্জন যেন দেশের সব মানুষ একসঙ্গে উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ম্যাচে শুরু থেকেই ছিল তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত সময় শেষে দুই দল ১-১ গোলে সমতায় থাকায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে অসাধারণ দৃঢ়তা দেখিয়ে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় প্যারাগুয়ে এবং বিদায় করে দেয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে।
শেষ বাঁশি বাজতেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নেমে আসে হাজারো সমর্থক। আনন্দ-উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো দেশ। দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন সাফল্য পেয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসছে প্যারাগুয়ের ফুটবলপ্রেমীরা।
কোচ গুস্তাভো আলফারোর অধীনে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক ভালো ফুটবল খেলছে প্যারাগুয়ে। তবে জার্মানির মতো শক্তিশালী দলকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দেওয়াকে টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেক ফুটবল বিশ্লেষকের মতে, এটি প্যারাগুয়ের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় সাফল্য।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, দেশটির প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট প্রতি ক্যালেন্ডার বছরে সর্বোচ্চ তিনটি বিশেষ সরকারি ছুটি ঘোষণা করার ক্ষমতা রাখেন। জাতীয় ফুটবল দলের এই ঐতিহাসিক অর্জনের স্বীকৃতি দিতেই সেই সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিশেষ ছুটির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ