কোনো ধরনের গুজব, অপপ্রচার (মিসইনফরমেশন) ও ষড়যন্ত্রে কান না দিয়ে নির্ভীক ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের প্রতি কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দায়িত্ব পালনকালে মাঠপর্যায়ে অনিচ্ছাকৃত কোনো ভুল হলে পুলিশ সদস্যরা দায়মুক্তি পাবেন; তবে জেনেশুনে অপেশাদার কোনো কর্মকাণ্ড বা ষড়যন্ত্রে জড়ালে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তরে নিজ কার্যালয়ে দেশের একটি শীর্ষ জাতীয় দৈনিককে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পলাতক কর্মকর্তাদের অবস্থান এবং আগামী দিনের পুলিশিং কর্মপরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা এসব কথা বলেন পুলিশপ্রধান।
পুলিশের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা ও অতীত অনিয়ম প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, ‘ইতোপূর্বে যারা ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে টেলিসংলাপে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এই দৃষ্টান্ত থেকে সবাইকে স্পষ্ট শিক্ষা নিতে হবে। একসময় মাদকের স্পট থেকে নিয়মিত মাসোহারা বা চাঁদা নেওয়া হতো, এমনকি টাকার বিনিময়ে অপরাধী ও আসামিদের ছেড়ে দেওয়া হতো। তবে এখন সেসব অনৈতিক চর্চা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
চাকরিতে বহাল থেকে ভেতরের তথ্য বাইরে পাচারকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে পুলিশপ্রধান জানান, যেসব পুলিশ সদস্য সার্ভিসে থেকে অভ্যন্তরীণ গোপন তথ্য পাচার করছেন, তদন্তের মাধ্যমে তাঁদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। অতীতে যেসব পুলিশ সদস্য চরম দলীয় লেজুড়বৃত্তিতে লিপ্ত ছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখন পলাতক। বর্তমানে দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তা যদি সেসব পলাতক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধেও সমভাবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের ভেতরে ষড়যন্ত্রকারী প্রসঙ্গে আইজিপি উল্লেখ করেন, বাহিনীতে চক্রান্তকারীদের সংখ্যা হাতেগোনা এবং কোনো অপরাধীই আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া গুজবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলের গত ১৭ বছরে যাঁদের নিয়োগ হয়েছে, তাঁদের চাকরি থাকবে না বলে একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। এ ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য যাঁরা ছড়াচ্ছেন, তাঁদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি সবাইকে গুজবে কান না দিয়ে সততা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে নিজ নিজ কর্মস্থলে শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
মন্তব্যসমূহ