ঢাকা    শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নতুন বেতন স্কেলের অর্থ জোগাতে ভর্তুকি ও সরকারি ব্যয় কমানোর সুপারিশ

নতুন বেতন স্কেলের অর্থ জোগাতে ভর্তুকি ও সরকারি ব্যয় কমানোর সুপারিশ
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে ভর্তুকি কমানো, রপ্তানি খাতের নগদ প্রণোদনা পর্যায়ক্রমে বন্ধ এবং সরকারি ব্যয় সংকোচনের সুপারিশ করেছে জাতীয় বেতন কমিশন। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস, ধীরগতির ও প্রত্যাশিত সুফল দিতে ব্যর্থ উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো এবং কর ব্যবস্থায় সংস্কারের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে কমিশন।

সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন কমিশন চলতি বছরের জানুয়ারিতে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। সে সময় কমিশনের প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো প্রকাশিত হলেও পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জনসমক্ষে আসেনি। বর্তমান সরকার চলতি ও আগামী অর্থবছরে কয়েক ধাপে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। মন্ত্রিসভায় কিছু পরিবর্তনসহ কাঠামো অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, সরকারি ও প্রতিরক্ষা খাতের প্রায় ২৩ লাখ কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা দিতে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

কমিশন অতিরিক্ত ব্যয় ১ লাখ ৬ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা প্রাক্কলন করেছিল। এর মধ্যে বেতনের জন্য ৩৯ হাজার ৩৪০ কোটি, বিভিন্ন ভাতার জন্য ২৯ হাজার ২৬৩ কোটি, পেনশনভোগীদের জন্য ১৯ হাজার ৭৩৩ কোটি এবং বাজেট বরাদ্দ থেকে বেতন-ভাতা পাওয়া কর্মচারীদের জন্য ১৭ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা ধরা হয়। পুরোনো বেতন কাঠামোয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের পেছনে সরকারের বার্ষিক ব্যয় ছিল প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

ভর্তুকির কার্যকারিতা নিয়মিত পর্যালোচনা করে যেসব ভর্তুকি অর্থনীতির স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলো ধাপে ধাপে তুলে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। প্রতিবেদনে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও কৃষি খাতের ভর্তুকির কথা বলা হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাজারের সঙ্গে সমন্বয়, ধাপে ধাপে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদারের সুপারিশও রয়েছে। কমিশনের মতে, এতে ভর্তুকির চাপ কমবে এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে।

বিনিময় হার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় রপ্তানি খাতে নগদ প্রণোদনার প্রয়োজন আগের তুলনায় কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে ১২ থেকে ১৪ মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে এ প্রণোদনা বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছে কমিশন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট নথি অনুযায়ী, ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে সরকারের ব্যয় ২০১৯–২০ অর্থবছরের ৪১ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ১ লাখ ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। পরবর্তী অর্থবছরে সংশোধিত বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা এবং চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ১২৫ কোটি টাকা।

সরকারি ব্যয় কমাতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীন অতিরিক্ত বিভাগ একীভূত করা বা সংখ্যা কমানোর সুপারিশ করেছে কমিশন। প্রশাসনিক সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের ভিত্তিতে করা এ সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে পরিচালন ব্যয় কমতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ধীরগতির এবং প্রত্যাশিত সুফল দিতে ব্যর্থ প্রকল্পে বরাদ্দ কমিয়ে সাশ্রয় হওয়া অর্থ অগ্রাধিকারমূলক উন্নয়ন ও বেতন-ভাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যবহারের প্রস্তাবও রয়েছে। দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ, সরকারি ভ্রমণ, জ্বালানি, লুব্রিকেন্ট, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচেও সাশ্রয়ের সুযোগ দেখেছে কমিশন।

বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত উন্নয়নশীল দেশগুলোর তুলনায় কম উল্লেখ করে রাজস্ব আয় বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে কমিশন। উন্নয়ন ব্যয়ের চাহিদা, বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা এবং ঋণের সুদ পরিশোধের চাপ সামলাতে বর্তমান রাজস্ব আদায় যথেষ্ট নয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা—এই দুই ভাগে পুনর্গঠন, কর ছাড় পর্যালোচনা এবং কর ব্যয় ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার সুপারিশ করেছে কমিশন।

করজালের বাইরে থাকা সম্পদশালী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের আওতায় আনতে রাজস্ব বিভাগের জনবল বাড়ানো এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। রাজস্ব বিভাগের গবেষণা জোরদার, দক্ষ জনবল নিয়োগ, পৃথক গবেষণা সেল গঠন এবং নতুন রাজস্ব উৎস চিহ্নিত করে নিয়মিত প্রতিবেদন তৈরির সুপারিশও রয়েছে। গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের মোট রাজস্ব আয়ের ১৩ দশমিক ২ শতাংশ এসেছে কর-বহির্ভূত উৎস থেকে—এ তথ্য উল্লেখ করে বিদ্যমান ফির হার বাড়ানো এবং নতুন আয়ের উৎস খোঁজার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। ভূমি উন্নয়ন কর, মদ ও মাদকদ্রব্যের ওপর শুল্ক, সড়ক কর, স্ট্যাম্প ডিউটি ও গাড়ির করের হারও বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কমিশনের রাজস্বসংক্রান্ত সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে এবং তার কিছু প্রতিফলন চলতি বাজেটে দেখা যাচ্ছে। ব্যয় কমানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তবে সব সুপারিশ বাস্তবায়ন করা সম্ভব নাও হতে পারে। ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দীর্ঘদিন ধরে এসব সংস্কারের তাগিদ দিয়ে আসছে; ঋণ আলোচনাতেও ভর্তুকি কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সামগ্রিকভাবে, নতুন বেতন কাঠামোর ব্যয় মেটাতে ভর্তুকি পুনর্বিন্যাস, সরকারি ব্যয় কমানো ও রাজস্ব বাড়ানোর সমন্বিত উদ্যোগের সুপারিশ করেছে কমিশন।

সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার

ট্যাগ : জাতীয় বেতন কমিশন নতুন বেতন স্কেল

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


নতুন বেতন স্কেলের অর্থ জোগাতে ভর্তুকি ও সরকারি ব্যয় কমানোর সুপারিশ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে ভর্তুকি কমানো, রপ্তানি খাতের নগদ প্রণোদনা পর্যায়ক্রমে বন্ধ এবং সরকারি ব্যয় সংকোচনের সুপারিশ করেছে জাতীয় বেতন কমিশন। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস, ধীরগতির ও প্রত্যাশিত সুফল দিতে ব্যর্থ উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো এবং কর ব্যবস্থায় সংস্কারের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে কমিশন।

সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন কমিশন চলতি বছরের জানুয়ারিতে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। সে সময় কমিশনের প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো প্রকাশিত হলেও পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জনসমক্ষে আসেনি। বর্তমান সরকার চলতি ও আগামী অর্থবছরে কয়েক ধাপে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। মন্ত্রিসভায় কিছু পরিবর্তনসহ কাঠামো অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, সরকারি ও প্রতিরক্ষা খাতের প্রায় ২৩ লাখ কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা দিতে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

কমিশন অতিরিক্ত ব্যয় ১ লাখ ৬ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা প্রাক্কলন করেছিল। এর মধ্যে বেতনের জন্য ৩৯ হাজার ৩৪০ কোটি, বিভিন্ন ভাতার জন্য ২৯ হাজার ২৬৩ কোটি, পেনশনভোগীদের জন্য ১৯ হাজার ৭৩৩ কোটি এবং বাজেট বরাদ্দ থেকে বেতন-ভাতা পাওয়া কর্মচারীদের জন্য ১৭ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা ধরা হয়। পুরোনো বেতন কাঠামোয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের পেছনে সরকারের বার্ষিক ব্যয় ছিল প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

ভর্তুকির কার্যকারিতা নিয়মিত পর্যালোচনা করে যেসব ভর্তুকি অর্থনীতির স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলো ধাপে ধাপে তুলে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। প্রতিবেদনে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও কৃষি খাতের ভর্তুকির কথা বলা হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাজারের সঙ্গে সমন্বয়, ধাপে ধাপে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদারের সুপারিশও রয়েছে। কমিশনের মতে, এতে ভর্তুকির চাপ কমবে এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে।

বিনিময় হার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় রপ্তানি খাতে নগদ প্রণোদনার প্রয়োজন আগের তুলনায় কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে ১২ থেকে ১৪ মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে এ প্রণোদনা বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছে কমিশন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট নথি অনুযায়ী, ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে সরকারের ব্যয় ২০১৯–২০ অর্থবছরের ৪১ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ১ লাখ ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। পরবর্তী অর্থবছরে সংশোধিত বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা এবং চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ১২৫ কোটি টাকা।

সরকারি ব্যয় কমাতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীন অতিরিক্ত বিভাগ একীভূত করা বা সংখ্যা কমানোর সুপারিশ করেছে কমিশন। প্রশাসনিক সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের ভিত্তিতে করা এ সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে পরিচালন ব্যয় কমতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ধীরগতির এবং প্রত্যাশিত সুফল দিতে ব্যর্থ প্রকল্পে বরাদ্দ কমিয়ে সাশ্রয় হওয়া অর্থ অগ্রাধিকারমূলক উন্নয়ন ও বেতন-ভাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যবহারের প্রস্তাবও রয়েছে। দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ, সরকারি ভ্রমণ, জ্বালানি, লুব্রিকেন্ট, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচেও সাশ্রয়ের সুযোগ দেখেছে কমিশন।

বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত উন্নয়নশীল দেশগুলোর তুলনায় কম উল্লেখ করে রাজস্ব আয় বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে কমিশন। উন্নয়ন ব্যয়ের চাহিদা, বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা এবং ঋণের সুদ পরিশোধের চাপ সামলাতে বর্তমান রাজস্ব আদায় যথেষ্ট নয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা—এই দুই ভাগে পুনর্গঠন, কর ছাড় পর্যালোচনা এবং কর ব্যয় ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার সুপারিশ করেছে কমিশন।

করজালের বাইরে থাকা সম্পদশালী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের আওতায় আনতে রাজস্ব বিভাগের জনবল বাড়ানো এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। রাজস্ব বিভাগের গবেষণা জোরদার, দক্ষ জনবল নিয়োগ, পৃথক গবেষণা সেল গঠন এবং নতুন রাজস্ব উৎস চিহ্নিত করে নিয়মিত প্রতিবেদন তৈরির সুপারিশও রয়েছে। গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের মোট রাজস্ব আয়ের ১৩ দশমিক ২ শতাংশ এসেছে কর-বহির্ভূত উৎস থেকে—এ তথ্য উল্লেখ করে বিদ্যমান ফির হার বাড়ানো এবং নতুন আয়ের উৎস খোঁজার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। ভূমি উন্নয়ন কর, মদ ও মাদকদ্রব্যের ওপর শুল্ক, সড়ক কর, স্ট্যাম্প ডিউটি ও গাড়ির করের হারও বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কমিশনের রাজস্বসংক্রান্ত সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে এবং তার কিছু প্রতিফলন চলতি বাজেটে দেখা যাচ্ছে। ব্যয় কমানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তবে সব সুপারিশ বাস্তবায়ন করা সম্ভব নাও হতে পারে। ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দীর্ঘদিন ধরে এসব সংস্কারের তাগিদ দিয়ে আসছে; ঋণ আলোচনাতেও ভর্তুকি কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সামগ্রিকভাবে, নতুন বেতন কাঠামোর ব্যয় মেটাতে ভর্তুকি পুনর্বিন্যাস, সরকারি ব্যয় কমানো ও রাজস্ব বাড়ানোর সমন্বিত উদ্যোগের সুপারিশ করেছে কমিশন।

সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ