বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর তেরঙ্গা মিছিলের আগের দিন গ্রেফতারের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তার দাবি, কয়েকটি নম্বরপ্লেটবিহীন গাড়ি তাকে অনুসরণ করছে এবং তার বাড়ির ওপরও গোয়েন্দা নজরদারি চলছে।
দীপকের আশঙ্কা, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবরের কর্মসূচির আগে বৃহস্পতিবার রাতেই অথবা শুক্রবার সকালে তাকে আটক করতে পারে দিল্লি পুলিশ। তবে এমন আশঙ্কায় পিছিয়ে যাওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি তিনি।
দীপকে বলেছেন, জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য জেলে যেতে হলেও তিনি প্রস্তুত। তার ভাষ্য, একজন নাগরিক হিসেবে তেরঙ্গা ওড়ানো অপরাধ হলে সেই দায় মেনেও তিনি কর্মসূচিতে থাকবেন।
শুক্রবার নয়াদিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি। দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে জাতীয় পতাকা নিয়ে সেখানে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই কর্মসূচির পেছনে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সিজেপির অভিযোগ। দলটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে। তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এদিকে কর্মসূচির নির্ধারিত স্থান সেন্ট্রাল পার্ক নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল জানিয়েছে, প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর পার্কটি সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ থাকবে।
এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন দীপকে। তার প্রশ্ন, তারা যদি দিল্লির ১০০টি জায়গায় জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কর্মসূচি ঘোষণা করেন, তাহলে কি কর্তৃপক্ষ সব জায়গা বন্ধ করে দেবে?
দীপকে আরও অভিযোগ করেছেন, তাকে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে এবং দিল্লি পুলিশ তাকে আটক করতে পারে। তবে নম্বরপ্লেটবিহীন গাড়ি দিয়ে অনুসরণ কিংবা আইবি সদস্যদের নজরদারির অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
এদিকে দিল্লি পুলিশ কনট প্লেস এলাকায় জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে সীমিতসংখ্যক মানুষকে জাতীয় পতাকা ওড়ানো ও জাতীয় সংগীত গাওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
এর আগে সিজেপির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে গিয়ে তিহার কারাগারে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জন্তর মন্তরে প্রবেশ এবং শান্তি বজায় রাখার মুচলেকার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে।
তাদের গ্রেফতারের প্রতিবাদ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবির মধ্যেই এবার তেরঙ্গা মিছিলের ডাক দিয়েছে সিজেপি। ফলে শুক্রবারের কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা দুটোই বাড়ছে।
মন্তব্যসমূহ