মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ড থেকে খালাস চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
বুধবার, ১৪ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তার পক্ষে এ আপিল দায়ের করা হয়।
এর আগে গত ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ হাসানুল হক ইনুকে তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে প্রতিটিতে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন। তবে তিনটি সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হওয়ায় কার্যত তাকে ১০ বছরই কারাগারে থাকতে হবে। পাশাপাশি দুটি অভিযোগে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়।
ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগে তাকে দণ্ডিত করা হলেও বাকি পাঁচটি অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় ২০ সেপ্টেম্বর।
মামলায় অভিযোগ ছিল, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ, আন্দোলন দমনে পরামর্শ এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্তে ভূমিকার মাধ্যমে ইনু অপরাধ সংঘটনে সহায়তা ও প্ররোচনা দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল তার ভূমিকা নিয়ে কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি ও ষড়যন্ত্রের বিষয়ও বিবেচনা করেছে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কুষ্টিয়ায় ৫ আগস্ট ছয়জনকে হত্যার অভিযোগটি ইনুর বিরুদ্ধে আনা হলেও ওই অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। ট্রাইব্যুনাল ওই অভিযোগে তাকে খালাস দেন। ফলে ইনুর ১০ বছরের সাজাটি সরাসরি ছয়জনকে হত্যার অভিযোগে দেওয়া হয়েছে, এমনটি বলা সঠিক হবে না।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষও আপিল করেছে। গত ৫ অক্টোবর প্রসিকিউশন ইনুর ১০ বছরের সাজাকে অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে তা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আবেদন করেছে। একই সঙ্গে যেসব অভিযোগে তিনি খালাস পেয়েছেন, সেগুলোর কয়েকটির বিরুদ্ধেও আপিল করা হয়েছে।
অর্থাৎ, একই মামলায় এখন একদিকে ইনু নিজের ১০ বছরের সাজা থেকে সম্পূর্ণ খালাস চেয়ে আপিল করেছেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ তার সাজা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে আপিল করেছে।
২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শাপলা চত্বরের ঘটনাসহ আরও একটি মামলার বিচারও চলছে।
মন্তব্যসমূহ