জুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।চিফ প্রসিকিউটর বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ ইনুর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেছে। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল সেই সাক্ষ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে পর্যালোচনা করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।তিনি বলেন, শেখ হাসিনার যে দায়, হাসানুল হক ইনুরও একই দায়। তাই শেখ হাসিনার যদি মৃত্যুদণ্ড হয়, তাহলে হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের সাজা হতে পারে না।আমিনুল ইসলাম জানান, ইনুর বিরুদ্ধে জুলাই হত্যাকাণ্ডের আটটি অভিযোগ ছিল। এর মধ্যে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। প্রমাণিত তিনটি অভিযোগে ১০ বছর করে সাজা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।তবে রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, আটটি অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ১০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, অডিও ও ভিডিও প্রমাণ এবং আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষ্যের লিখিত বক্তব্যেও ইনুর সংশ্লিষ্টতা উঠে এসেছে।তিনি বলেন, ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে কারফিউ জারি, দেখামাত্র গুলির নির্দেশনা এবং আন্দোলন দমনের সিদ্ধান্তে ইনু একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন বলে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করেছে।চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের জঙ্গি আখ্যা দেওয়ার অভিযোগও ইনুর বিরুদ্ধে ছিল। এ ছাড়া শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপে তিনি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সায় দিয়েছেন এবং বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন বলে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করেছে।আমিনুল ইসলাম বলেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ইনুকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল যে সাজা দিয়েছেন, তা অপ্রতুল। রায়ের কপি হাতে পেলেই উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। এর আগে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।