পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা এলাকার উপনির্বাচনে ভারতের বিজেপি দলের দুই প্রার্থী বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। নন্দীগ্রামের হাসি রানী রথ এবং রেজিনগরের শাখারভ সরকার উভয়েই নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। এই দুই আসনে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা যথাক্রমে প্রায় ৩০ শতাংশ ও ৭৪ শতাংশ। এই প্রেক্ষাপটে বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছে যে সংখ্যালঘু ভোটাররাও উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
গত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী এবং রেজিনগরে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর জয়ী হয়েছিলেন, কিন্তু তাঁরা পরবর্তীতে ওই দুটি আসন ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে গত শুক্রবার উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নন্দীগ্রামে বিজেপির হাসি রানী রথ প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করেছেন; তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কংগ্রেসের মিলন প্রধান। এছাড়া এই আসনে কংগ্রেস দ্বিতীয়, বামফ্রন্ট তৃতীয়, আইএসএফ চতুর্থ এবং গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস পঞ্চম স্থানে ছিল। পূর্বের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী মাত্র ৯ হাজার ৬৬৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন, যা এবারকার নির্বাচনের চেয়ে অনেক কম।
রেজিনগরে শাখারভ সরকার ৭৫ হাজার ৭৯১ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল আমজনতা উন্নয়ন পার্টির গোলাম নবী আজাদ। এই আসনে অন্যান্য দলগুলোর অবস্থান যথাক্রমে আমজনতা উন্নয়ন পার্টি দ্বিতীয়, কংগ্রেস তৃতীয়, তৃণমূল চতুর্থ, বামফ্রন্ট পঞ্চম এবং গণতান্ত্রিক তৃণমূল ষষ্ঠ। পূর্বের বিধানসভা নির্বাচনে ওই আসনে হুমায়ুন কবীর ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৩৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন, আর বিজেপি প্রার্থী তখন ৫৮ হাজার ৮৭৬ ভোটে হেরেছিলেন।
বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অনিয়ম এবং ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেয়ার পরিবেশের অভাবের অভিযোগ তুলেছে। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, আইএসএফ, আমজনতা উন্নয়ন পার্টি ও বামপন্থী দলগুলো আগে থেকেই ভোট লুটের সম্ভাবনার আশঙ্কা জানিয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্বাধীন তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
বিজেপির এই দুই আসনের জয় পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। বিশেষত রেজিনগরে আগের নির্বাচনে পরাজয়ের পর জয় এবং নন্দীগ্রামে বিপুল ভোট ব্যবধান বৃদ্ধি ভোটারের সমর্থনে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মন্তব্যসমূহ