ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

চাঁদাবাজ কর্মীদের পক্ষে জবি ছাত্রদল সদস্যসচিবের সাফাই, অর্থ লেনদেন স্বীকার অভিযুক্তের

চাঁদাবাজ কর্মীদের পক্ষে জবি ছাত্রদল সদস্যসচিবের সাফাই, অর্থ লেনদেন স্বীকার অভিযুক্তের
ফলো করুন

রাজধানীর সদরঘাটে প্রিন্স আওলাদ লঞ্চে কর্মীদের সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মীর বিরোধের পর ৪০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি ও ২০ হাজার টাকায় মীমাংসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে এসেছে। জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিন এক পোস্টে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের পক্ষ নিয়ে উল্টো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মীমাংসার টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুললেও অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আলিমূল ইসলাম অর্থ লেনদেনের কথা স্বীকার করেছেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে সদরঘাটের ৪ নম্বর টার্মিনালে প্রিন্স আওলাদ লঞ্চে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে দুই শিক্ষার্থী লঞ্চে প্রবেশের চেষ্টা করলে কর্মীরা তাদের বাধা দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে ঘটনাস্থলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী উপস্থিত হন। তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৈকত, কাব্য, ইমন, আসিফ ও লোক প্রশাসন বিভাগের আলিমুল, ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের সাইন আহমেদ পবন; ইতিহাস বিভাগের ১৮তম ব্যাচের সাইদ ও নাইম; থিয়েটার বিভাগের ১৮তম ব্যাচের নাইম; আইইআর বিভাগের ১৮তম ব্যাচের তাজ এবং আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএল) ১৮তম ব্যাচের বহিষ্কৃত ছাত্রদল কর্মী শের আলী ছিলেন বলে জানা গেছে।

একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীদের একজন লঞ্চের এক কর্মীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ঘটনাস্থলে জবির আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মী উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। 

অভিযুক্তদের বেশিরভাগ জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।

ঘটনার সময় লঞ্চের কয়েকজন কর্মীর মোবাইল ফোন ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে। একই সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও লঞ্চকর্মী আহত হন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

প্রিন্স আওলাদ লঞ্চের এক কর্মী পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে কিছু শিক্ষার্থী প্রায়ই সন্ধ্যা বা রাতে লঞ্চে এসে মাদক সেবন করেন। এ কারণে পরিচয়পত্র ছাড়া প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে দাবি করেন তিনি।

ওই কর্মী আরও বলেন, ঘটনার পর তারা লঞ্চ মালিক সমিতির কার্যালয়ে বসেন। সেখানে আবারও কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বৈঠকে টাকা দাবি করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়।

প্রিন্স আওলাদ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. জিল্লু বলেন, আর্থিক লেনদেনের সঠিক পরিমাণ তিনি বলতে পারবেন না। তবে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি। একই সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান তিনি। 

লঞ্চটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক যুবরাজ হোসেন বলেন, ঘটনার পর সংশ্লিষ্টরা একসঙ্গে বসেছিলেন। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় ছাড়া যেন কেউ লঞ্চে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার সময় মীমাংসার নামে চাঁদাবাজির কথা শুনে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। এ সময় উপস্থিত বাংলাদেশ বুলেটিনের জবি প্রতিনিধি আকাশ আহমেদ রুপম এবং পাবলিক নিউজের জবি প্রতিনিধি এটিএম হাসনাত হাবিব সঙ্গে ছাত্রদলকর্মীরা বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। এক পর্যায়ে তাদের জোর করে বের করে দেয়। সাংবাদিকরা কীভাবে বিষয়টির মীমাংসা হচ্ছে, তা জানতে চাইলে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

তবে এ ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে নিজ কর্মীদের সাফাই গেয়ে উল্টো সাংবাদিকদের উপর দায় দিয়ে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট করেন জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঐ পোস্টে তিনি দাবি করেন, লঞ্চের কর্মীরা জবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও মারধর করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮, ১৯, ২০ ও ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ নিজেই ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা ও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।

শামছুল আরেফিন আরও দাবি করেন, নির্যাতিত জবিয়ানদের পক্ষ না নিয়ে কেউ কেউ সাংবাদিক পরিচয়ে আপস-মীমাংসার টাকা নিতে চেয়েছেন। তার ভাষ্য, এটি জবিয়ানদের আবেগ ও অনুভূতির পরিপন্থী।

তবে অর্থ লেনদেনের বিষয়ে শামছুলের ওই বক্তব্যের সঙ্গে অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী আলিমূল ইসলামের বক্তব্যের ভিন্নতা পাওয়া গেছে।

ঘটনায় অভিযুক্ত জবির ২০ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মী আলিমূল ইসলাম বলেন, তাদের বন্ধু সৈকতের সঙ্গে লঞ্চ কর্তৃপক্ষের ঝামেলা হলে সৈকতের ফোন পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। পরে লঞ্চের লোকজনের সঙ্গে সৈকত একটি কক্ষে ঢুকে গেলে ভেতর থেকে উচ্চস্বরে চিৎকার শুনতে পান বলে দাবি করেন তিনি।

অর্থ লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে আলিমূল বলেন, কর্তৃপক্ষের সাথে হাতাহাতির সময় সৈকতের মোবাইল হারিয়ে যাওয়ার কারনে ক্ষতিপূরণ চাইলে পরে তারা এর জন্য তারা তাকে কিছু টাকা দিয়েছিল।

ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদলের বহিষ্কৃত কর্মী শের আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ঘটনার সময় ভেতরে ছিলেন এবং বিস্তারিত কিছু জানেন না। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের ছোট ভাই সৈকতের সাথে লন্সের স্টাফদের ঝামেলা লাগছিলো। আমরা গিয়ে সমাধান করে দিয়েছি। টাকার বিষয়ে সৈকতের কাছে শুনেন।’’

অর্থাৎ, সদস্যসচিবের পোস্টে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মীমাংসার টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলা হলেও তার নিজ সংগঠনের অভিযুক্ত কর্মীর বক্তব্যে ঘটনার পর অর্থ দেওয়ার কথা উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন। ছাত্রদলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি করে থাকলে তার দায় ছাত্রদল নেবে না। তবে ছাত্রদলের কোনো কর্মী জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


চাঁদাবাজ কর্মীদের পক্ষে জবি ছাত্রদল সদস্যসচিবের সাফাই, অর্থ লেনদেন স্বীকার অভিযুক্তের

প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর সদরঘাটে প্রিন্স আওলাদ লঞ্চে কর্মীদের সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মীর বিরোধের পর ৪০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি ও ২০ হাজার টাকায় মীমাংসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে এসেছে। জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিন এক পোস্টে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের পক্ষ নিয়ে উল্টো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মীমাংসার টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুললেও অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আলিমূল ইসলাম অর্থ লেনদেনের কথা স্বীকার করেছেন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে সদরঘাটের ৪ নম্বর টার্মিনালে প্রিন্স আওলাদ লঞ্চে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে দুই শিক্ষার্থী লঞ্চে প্রবেশের চেষ্টা করলে কর্মীরা তাদের বাধা দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে ঘটনাস্থলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী উপস্থিত হন। তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৈকত, কাব্য, ইমন, আসিফ ও লোক প্রশাসন বিভাগের আলিমুল, ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের সাইন আহমেদ পবন; ইতিহাস বিভাগের ১৮তম ব্যাচের সাইদ ও নাইম; থিয়েটার বিভাগের ১৮তম ব্যাচের নাইম; আইইআর বিভাগের ১৮তম ব্যাচের তাজ এবং আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএল) ১৮তম ব্যাচের বহিষ্কৃত ছাত্রদল কর্মী শের আলী ছিলেন বলে জানা গেছে।

একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীদের একজন লঞ্চের এক কর্মীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ঘটনাস্থলে জবির আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মী উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। 

অভিযুক্তদের বেশিরভাগ জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।

ঘটনার সময় লঞ্চের কয়েকজন কর্মীর মোবাইল ফোন ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে। একই সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও লঞ্চকর্মী আহত হন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

প্রিন্স আওলাদ লঞ্চের এক কর্মী পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে কিছু শিক্ষার্থী প্রায়ই সন্ধ্যা বা রাতে লঞ্চে এসে মাদক সেবন করেন। এ কারণে পরিচয়পত্র ছাড়া প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে দাবি করেন তিনি।

ওই কর্মী আরও বলেন, ঘটনার পর তারা লঞ্চ মালিক সমিতির কার্যালয়ে বসেন। সেখানে আবারও কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বৈঠকে টাকা দাবি করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়।

প্রিন্স আওলাদ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. জিল্লু বলেন, আর্থিক লেনদেনের সঠিক পরিমাণ তিনি বলতে পারবেন না। তবে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি। একই সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান তিনি। 

লঞ্চটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক যুবরাজ হোসেন বলেন, ঘটনার পর সংশ্লিষ্টরা একসঙ্গে বসেছিলেন। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় ছাড়া যেন কেউ লঞ্চে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার সময় মীমাংসার নামে চাঁদাবাজির কথা শুনে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। এ সময় উপস্থিত বাংলাদেশ বুলেটিনের জবি প্রতিনিধি আকাশ আহমেদ রুপম এবং পাবলিক নিউজের জবি প্রতিনিধি এটিএম হাসনাত হাবিব সঙ্গে ছাত্রদলকর্মীরা বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। এক পর্যায়ে তাদের জোর করে বের করে দেয়। সাংবাদিকরা কীভাবে বিষয়টির মীমাংসা হচ্ছে, তা জানতে চাইলে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

তবে এ ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে নিজ কর্মীদের সাফাই গেয়ে উল্টো সাংবাদিকদের উপর দায় দিয়ে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট করেন জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঐ পোস্টে তিনি দাবি করেন, লঞ্চের কর্মীরা জবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও মারধর করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮, ১৯, ২০ ও ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ নিজেই ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা ও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।

শামছুল আরেফিন আরও দাবি করেন, নির্যাতিত জবিয়ানদের পক্ষ না নিয়ে কেউ কেউ সাংবাদিক পরিচয়ে আপস-মীমাংসার টাকা নিতে চেয়েছেন। তার ভাষ্য, এটি জবিয়ানদের আবেগ ও অনুভূতির পরিপন্থী।

তবে অর্থ লেনদেনের বিষয়ে শামছুলের ওই বক্তব্যের সঙ্গে অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী আলিমূল ইসলামের বক্তব্যের ভিন্নতা পাওয়া গেছে।

ঘটনায় অভিযুক্ত জবির ২০ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মী আলিমূল ইসলাম বলেন, তাদের বন্ধু সৈকতের সঙ্গে লঞ্চ কর্তৃপক্ষের ঝামেলা হলে সৈকতের ফোন পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। পরে লঞ্চের লোকজনের সঙ্গে সৈকত একটি কক্ষে ঢুকে গেলে ভেতর থেকে উচ্চস্বরে চিৎকার শুনতে পান বলে দাবি করেন তিনি।

অর্থ লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে আলিমূল বলেন, কর্তৃপক্ষের সাথে হাতাহাতির সময় সৈকতের মোবাইল হারিয়ে যাওয়ার কারনে ক্ষতিপূরণ চাইলে পরে তারা এর জন্য তারা তাকে কিছু টাকা দিয়েছিল।

ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদলের বহিষ্কৃত কর্মী শের আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ঘটনার সময় ভেতরে ছিলেন এবং বিস্তারিত কিছু জানেন না। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের ছোট ভাই সৈকতের সাথে লন্সের স্টাফদের ঝামেলা লাগছিলো। আমরা গিয়ে সমাধান করে দিয়েছি। টাকার বিষয়ে সৈকতের কাছে শুনেন।’’

অর্থাৎ, সদস্যসচিবের পোস্টে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মীমাংসার টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলা হলেও তার নিজ সংগঠনের অভিযুক্ত কর্মীর বক্তব্যে ঘটনার পর অর্থ দেওয়ার কথা উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন। ছাত্রদলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি করে থাকলে তার দায় ছাত্রদল নেবে না। তবে ছাত্রদলের কোনো কর্মী জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ